প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদের চলতি অধিবেশনেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি

এস এম নূর মোহাম্মদ : ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কিছু ধারা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবেনা। এই আইন দেশের সকল নাগরিকদের জন্যই প্রতিবন্ধক। তাই সংসদের চলতি অধিবেশনেই আপত্তিকর ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মুক্ত গণমাধ্যম: প্রেক্ষিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানান আইনজ্ঞরা। আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’রিপোর্টার্স ফোরাম(এলআরএফ) এ বৈঠকের আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এই আইনের অপরাধের সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা আছে, যার ইচ্ছামত ব্যাখা ও অপ্রপ্রয়োগ করা সম্ভব। এ আইনের দ্বারা কোন সংস্থাকে যদি অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়না তখন সেটি অবশ্যই কালো আইন। এই আইনের অধীনে পুলিশের ক্ষেত্রে তল্লাশী, জব্দ, গৃহে প্রবেশ, গ্রেফতার সহ বেশ কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে অবাধ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতাও আইনটির বিধানে তুলে ধরা হয়েছে। তাই এ আইনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। এটি শুধু আইনজীবী, সাংবাদিকের সমস্যা নয়, এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সকল নাগরিকের দায়িত্ব।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, আইনটি ভালো করে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে কাউকে যে কোন অবস্থায় এ আইনটির অধীনে ফেলে দেওয়া যায়। বিশেষ ক্ষমতা আইনের থেকেও এটি ভয়ানক। তাই শুধু সাংবাদিক নয় এই আইনের প্রয়োগের আগেই আমরা সকলে এটি নিয়ে কথা বলি। এই আইনের অবশ্যই সংশোধনী হওয়া দরকার। সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে এটি সংশোধন করতে বলছে। আমি মনে করি এই অধিবেশনেই এটি বাতিল কিংবা সংশোধন করা সম্ভব।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, সকলেই যদি মনে করি জনগণের স্বার্থে হয়নি, তবে এটি অবশ্যই সংশোধন করা যাবে। আইনটি কোন বাইবেল নয় যে সংশোধন বা বাতিল করা যাবেনা। প্রধানমন্ত্রী যদি প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন তবে অবশ্যই বাস্তাবায়ন করবেন।

দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, আমরা কিন্তু পুরো আইনকে প্রত্যাখ্যান করিনি। আইনটিকে আমরা ফেলেও দেইনি। আমরা শুধু বলেছি এই ধারাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এ আইনটি শুধুমাত্র গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য ক্ষতিকারক নয়। এটা আরও ব্যাপক। আমরা সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। আস্থা রেখেই আমরা একটি সমাধানের পৌঁছাতে পারবো। আমরা রাস্তায় প্রতিবাদও করবো, সরকারের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাব। আমরা এ প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে চাই।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, আমরা কোন অবস্থাতেই সংশোধনী ছাড়া আইনটি বাস্তবায়ন বা কার্যকর হোক তা সাংবাদিক সমাজ থেকে মেনে নিতে পারিনা। এই আইনটি পাশ করার মাধ্যমে সরকার নিজেদের স্বৈরাচারী সরকার বলে পরিচয় দেবেনা বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আইনটির কয়েকটি ধারার অপ্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের দ্বারা ৫৭ ধারা যে বাতিল হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। ৫৭ ধারাটি থেকে যাচ্ছে। আইনটির ৫(৩) ধারাতে নিরাপত্তার জন্য গঠিত এজেন্সির কার্যক্রম বিধি দ্বারা পরিচালিত হওয়ার করা বলা হয়েছে। এর ফলে সরকার যখন যাকে মনে করবে তাকে ধরতে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারবে।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ন্যায় সঙ্গতভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। টানাহেচরা, গালিগালাজ করে আইনটি ব্যবহার হচ্ছে। তাই আনটির ধারাগুলো সংশোধন প্রয়োজন।

ল’রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক হাসান জাবেদ এটি সঞ্চালনা করেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ন সম্পাদক মিজানুর রহমান খান।

সর্বাধিক পঠিত