প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২৫ প্রকল্পে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ পাঁচ বিলিয়ন ডলার

শাহীন চৌধুরী: বর্তমানে বাংলাদেশে ২৫টি প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে-কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার, বস্ত্র এবং তৈরি পোশাক, চামড়া, পেট্রোকেমিক্যাল, প্রকৌশল ও সেবা খাত উন্নতর করা।

বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ইত্যাদি খুবই জরুরি। বর্তমানে সরকার বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে রেকর্ড করেছে। মাত্র তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কয়লাভিত্তিক সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও নির্মাণ করছে। এসব কারনেই এখন বিদেশীরা এদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি সফরকালে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের সংগঠন সৌদি চেম্বার ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এবং পানি প্রাপ্তির সুবিধা আছে। আছে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা। স্বল্প ঝুঁকি এবং দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণযোগ্যতার সুবিধা। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা প্রাপ্তির সুবিধা নিশ্চিত করেছে।

এ সময় বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থেই আপনাদের বাংলাদেশে ব্যবসায়, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একে অন্যের হাতে হাত রেখে চলতে পারি।
সৌদি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদীয়মান খাত, যেমন- পুঁজিবাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। এসময় হাল্কা প্রকৌশল শিল্প, ব্লু-ইকোনমি, গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পানি ও সমুদ্র সম্পদ, অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোগত প্রকল্প এবং সেবামূলক খাত, যেমন- ব্যাংকিং এবং অর্থনীতি, লজিস্টিক এবং মানবসম্পদ খাতেও বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, সরকার দেশে ১০টি প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃজনের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং দুই অঙ্কের টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগ, হাইটেক, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে এ ধরনের আরও প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুই হাজার একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। যেগুলো বিনিয়োগকারীরা তাদের নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক ব্যবহার করতে পারবেন।

ক্রয় সক্ষমতার বিচারে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আমাদের দারিদ্র্যসীমা ৪১ দশমিক পাঁচ ভাগ থেকে ২১ দশমিক আট ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। আমাদের অর্থনীতিও বিশ্বের ১০টি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশের একটি। বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে সাত শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে এবং এ বছর সাত দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহৎ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ, যার রফতানির পরিমাণ গত অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৬৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী, চতুর্থ বৃহৎ চাল উৎপাদনকারী এবং তৃতীয় বৃহৎ মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ। ওষুধ শিল্প দেশের আরেকটি উল্লেখযোগ্য খাত। দেশের ওষুধের ৯৮ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পেরও ক্রমবিকাশ ঘটেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মাঝারি আকারের সমুদ্রগামী বেশকিছু জাহাজ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করেছে। এসব ঘটনা বিদেশী বিনিয়োগের জন্য দৃষ্টান্ত বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ