প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দাবি মানবে না আ.লীগ, কী করবে ঐক্যফ্রন্ট?

মহসীন কবির : সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন ৭ দফার একটিও মানবে না তারা। তারা আরো বলেছেন, খুনিদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যে জনগণ কোনোদিনও বিশ্বাস করবে না, সমর্থন করবে না এবং মানবে না। ফলে আলোচনার পথও অনেকটা রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু আসা ছাড়েনি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। আলোচনায় বসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিঠি দেবে তারা। কাল রোববার দুপুরে এ চিঠি পৌঁছে দেয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান না হলে আবারও সংঘাত অনিবার্য বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদিকে মামলা গ্রেফতার, ব্যক্তিগত আক্রমণ, কথিত কথোপকথন ফাঁস করা এগুলোকে ঐক্যফ্রন্টকে চাপে রাখতে অবলম্বন করা হচ্ছে নানা কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে শুরুতে এ জোটকে গুরুত্ব না দেয়ার কথা বলা হয়। আবার স্বাগতও জানানো হয়। তবে প্রতিদিনই ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সমালোচনা করছেন সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মানা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সাত দফার এক দফাও মানা হবে না, এগুলো অযৌক্তিক দাবি। শুক্রবার উত্তরায় মেট্রোরেল নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের ডাককে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি শুধু জানতে চাই উনার মাথা ঠিক আছে কি না? সিলেটে গেলেন, এত বড় ঐক্যফ্রন্ট কয়টা লোক হলো? জনমনে এই ঐক্যফ্রন্ট সাড়া জাগাবে না। বড় বড় বাঘা বাঘা নেতারা সেখানে গেলেন বোমা ফাটাতে, জনগণের সাড়া কি মিলেছে? কোনো দিন মিলবে না। তিনি বলেন, কোনো আন্দোলন সফল হবে না। বিএনপি ‘সংস্কারপন্থি’দের সক্রিয় করে আন্দোলনে শক্তি যোগাবে, আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংস্কারবাদীরা এত দিন ছিল না, বিএনপি কতটা দেউলিয়া তাদেরকে এখন দলে ভেড়াচ্ছে আবার। দলের লোকজনকে সংস্কারপন্থি বলে কোণঠাসা করে রেখেছিল বিএনপি।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেয়া সাত দফা দাবি না মেনে একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে আন্দোলনের ঝড় উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম এর আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কিছু দাবি জানিয়েছি। এই দাবিগুলো না মেনে যদি সরকার তফসিল ঘোষণা করেন, তাহলে বাংলাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে।
সেই ঝড়েই ইন্শাআল্লাহ আমরা আবার একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবো। মওদুদ বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া একটি স্বৈরাচারী সরকারকে অপসারণ করা সম্ভব না। আমরা ইতিমধ্যে একটি ঐক্য করেছি। এই ঐক্যের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হবে। বিরোধী দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তিনি বলেন, শুধু বিএনপির তৃণমূল নয়, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে।
আমি, আমাদের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির নেতারাও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছি।

এটা সরকার পরিকল্পিভাবে করছে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে কোনো রকমের একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে পরাজিত হবে। সেজন্য তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নতুন পরিকল্পনা করেছে। মওদুদ বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি মতো নির্বাচন করতে চাইলে সরকারের এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। এ সময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে ৭ দফা দাবি জানিয়েছি। এই দাবিগুলো না মানলে সরকার যেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে না পারে, আমাদের সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। নিউ ইয়র্কে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি আছে দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে সরকারি দলের যেসব নেতারা বড় বড় কথা বলে নিউ ইয়র্কে তাদের বড় বড় বাড়ি আছে। আমি কারও নাম উল্লেখ করতে চাই না। তবে যারা আজ দুর্নীতি নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, নিউ ইয়র্কে তাদের বড় বড় বাড়ির ছবি আছে আমার কাছে। মওদুদ বলেন, স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। দুর্নীতির মাধ্যমে তারা যে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সেগুলোকে রক্ষার জন্যই তারা এমনটা করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ