প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. কামালের প্রতি এতো ক্ষোভ কেনো?

মাহবুব আলম : ভোটের আগে দল ও জোটের ভাঙাগড়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল ও জোট গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে ষড়যন্ত্র (অবশ্য বিরোধী দলের)। বলা হচ্ছে, টার্গেট শেখ হাসিনা। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চক্রান্ত। দল ও জোট তো নির্বাচনের জন্যে। নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ জোট (১৪ দল) হারে, তাহলে তো শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারাবেই। আর যদি জেতে তাহলে তো ক্ষমতা ধরে রাখার ঘটনা ঘটবে। এটাই তো গণতান্ত্রিক দেশের রীতিনীতি। তাহলে ক্ষমতাসীন দল ও জোটকে পরাজিত করার মধ্যে ষড়যন্ত্র কেনো খোঁজা হচ্ছে?

এখানে একটা কথা পরিস্কার করে বলা দরকার। সব রাজনৈতিক দল ও জোট রাজনীতি করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে। এটা তো অপরাধ নয়। এটা তার অধিকার। এই অধিকার সেই অর্জন করবে যার বা যে দল ও জোটের যোগ্যতা আছে। আর এই যোগ্যতার মাপকাঠি হলো বেশি ভোট পাওয়া। মনে রাখতে হবে, ড. কামাল হোসেনরা জনসেবার জন্যে রামকৃষ্ণ মিশন করেননি। তারা ক্ষমতার জন্য রাজনৈতিক দল ও জোট করেছেন। সেই যাওয়া ঠেকাতে পাল্টা জোট, পাল্টা রাজনীতি। সেই রাজনীতি সেই জোট ১৪ দল তো আছেই। তাহলে ভয়টা কোথায়? আর ড. কামালের প্রতি ক্ষোভটাই বা কেনো? এই ক্ষোভ কি এজন্য যে, তিনি কেনো ক্ষমতা চান? করছেন ওকালতি, ওইটাই করেন না কেনো? এ ক্ষোভ আসলে মনের গভীরে ভয় ধরার ক্ষোভ। ক্ষোভের ফলেই ১৪ দল বলছে, এটা জোট না ঘোঁট। আবার একই সঙ্গে ১৪ দল বলছে, যাদের ভোট নেই, তারাই জোট করছে। জনবিচ্ছিন্ন জোট করে বিএনপির ভোট কমেছে। যদি তাই হয়, তাহলে ক্ষমতাসীনদের জন্যে তো খুশির বার্তা, আনন্দ সংবাদ। তাহলে এ নিয়ে অহেতুক কাদা ছোঁড়াছুড়ি কেনো? কেনো উত্তেজক-উস্কানিমূলক কথাবার্তা? এতে করে কি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নতি হচ্ছে না অধঃপতন হচ্ছে? এটা বিশেষভাবে চিন্তাভাবনা ও বিবেচনা করা উচিত।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের প্রায় সব দলেরই আন্দোলন সংগ্রামের দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। আছে অনেক সংগ্রামী ও বিচক্ষণ নেতা। আমার বিশ্বাস, নেতারা এ বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করবেন এবং রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবেই লড়বেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কথাই বলেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবেন। সেই ক্ষমতা তার ও আওয়ামী লীগের আছে। এটা করা হলে একদিকে যেমন চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে, অন্যদিকে সংঘাতের আশংকা দূর হয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার হবে। এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ