প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছেই

শাকিল আহমেদ : স্টপেজ ছাড়া যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠা-নামা, বাড়তি ভাড়া আদায়, গাড়িতে চালক-হেলপারের প্রয়োজনীয় তথ্য না ঝুলানো, গেট খোলা রাখা, এবং যাত্রী হয়রানিসহ আগের মতোই চলছে রাজধানীর গণপরিবহন। বুয়েটের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সামছুল হক বলেন, মেয়র আনিসুল হকের নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার পরিবহনে শৃংঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আন্দোলনে ফলে সবার মাঝে সচেতনতা এসেছে। সড়ক নিরাপদ করতে পুলিশ ও বাস মালিকদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

পরিবহনে শৃংঙ্খলা ফেরাতে বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। একই সময়ের মধ্যে গণপরিবহনে দৃশ্যমান দু’টি স্থানে চালক এবং হেলপারের ছবি, নাম, চালকের লাইসেন্স, মোবাইল নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। মহাসড়কের পরিবহনকে সিট বেল্ট সংযোজনের করা। ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাসে নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় লাইট, সিসিটিভি স্থাপন এবং ১শ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করা। সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা, ফুটপাত হকার মুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করা। রোড ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধি; এমন নির্দেশনা দেয় হয়েছিলো। মোটরসাইকেল দু’জন আরোহীর হেলমেট বাধ্যতামূলক করা। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজধানীতে চুক্তিভিত্তিক কোন গণপরিবহন চলবেনা। যে কোম্পানি এটা মানবে না তার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

কিন্তু রাজধানীতে এখনো চলছে ফিটনেস এবং লাইসেন্সবিহীন গণপরিবহন। চলছে চুক্তিভিত্তিক পরিবহন চালকদের যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সিটিং সার্ভিসের নামে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। গাড়িতে চালক হেলপারদের পরিচয়পত্রসহ ছবি ঝুলানোর কথা থাকলেও সরকারি বিআরটিসি বাস ছাড়া বেসরকারি কোন গাড়িতে এ রকম কোন চিত্র দেখা যায়নি। সাভার থেকে গুলিস্থানগামী ওয়েলকাম, ঠিকানা, মৌমিতা, সাভার পরিবহনসহ রাজধানীর] বেশ কয়েকজন চালক-হেলপার বলেন, গাড়িতে ছবি রাখার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। মালিকরা আমাদেরকে এবিষয়ে কিছু বলেনি এবং পুলিশ কিছু জানায়নি তারা শুধু লাইসেন্স চেক করে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বেশিরভাগ পরিবহন মালিক প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে এর কোন বিচার হয় না। আর এই বিচারহীনতার কারণে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছে।
সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানি খন্দকার বলেন, আমাদের বেশির ভাগ পরিবহন চুক্তি নয়, ওয়েবিলে চলছে। তবে কিছু অনিয়ম হচ্ছে, আমরা এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। চালক ও হেলপাররা কেউই এক গাড়িতে নিয়মিত কাজ করে না, তাই পরিচয়পত্র ও ছবি ঝুলাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এবিষয়ে ধানমন্ডি জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আকরাম হাসান বলেন, গাড়িতে চালক ও হেলপারের ছবি রাখার নিয়মটি এখনো চালু হয়নি। যত্রতত্র যাত্রি তোলা, গেট বন্ধ কেের গাড়ি চালানোর বিষয়টি আমরা মনিটর করছি। তবে যাত্রিদের ভুল রয়েছে, তার যেখানে সেখানে গাড়ি থামাতে চালকদের বাধ্য করছেন। সম্পাদনা : মাহবুব আলম/রেজাউল আহসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত