প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ

বিভুরঞ্জন সরকার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে এক বছর আগে থেকেই। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক সভাসমাবেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে দেশবাসীর প্রতি নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, জানাচ্ছেন। কিন্তু ক্ষমতাপ্রত্যাশী দল বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছে না। দলটি এখনও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুকূলে সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া জেলে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। তারেকের দেশে ফেরা অনিশ্চিত। খালেদা জিয়ার কারামুক্তিও কবে ঘটবে কেউ বলতে পারছে না।

বিএনপির প্রকাশ্য অবস্থান খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। আবার খালেদ জিয়ার মুক্তির দাবিকে সামনে এনে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তাও বিএনপির আছে। এরমধ্যে বিএনপি কামাল হোসেনকে সামনে রেখে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সামিল হয়েছে। সিলেটে জনসভা করে ঐক্যফ্রন্ট কার্যত নির্বাচনী প্রচারণাই শুরু করেছে। ঐক্যফ্রন্টকে কামাল হোসেন নির্বাচনী জোট না বললেও এটা যে নির্বাচনেরই জোট, সেটা সচেতন সবাই বুঝতে পারছে। সিলেটের জনসভা বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টকে কিছুটা উজ্জীবিত করেছে। কামাল হোসেন-রব-মান্নাদের জোটের ফলাফল শূন্য বলা হলেও বিএনপি যে একটি বড় সংখ্যা নিয়ে এই ফ্রন্টে আছে এটা ভুলে যাওয়া ঠিক না। সিলেটে জনসভায় প্রচুর জনসমাগম হয়েছে। যদিও সরকারি নানা রকম বাধাবিপত্তি ছিল।

বিএনপি হামলা-মামলার চাপে আছে। সাংগঠনিক তৎপরতা দলটি বলতে গেলে চালাতেই পারছে না। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিএনপির শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হলেও বিএনপি যে দুর্বল হয়ে পড়েনি তার প্রমাণ, অনুমতি পেলে তাদের জনসভায় মানুষের উপস্থিতি। বিএনপির সমর্থকরা যে বিএনপিকে ছেড়ে যায়নি সেটা আওয়ামী লীগকে, সরকারকে মনে রাখতে হবে। আগামী নির্বাচনটা আওয়ামী লীগের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই আসবে। বিএনপি যদি নির্বাচনে না-ও আসে তবু সহজ নির্বাচন-জয় আওয়ামী লীগের হবে না। বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগই হয়ে উঠতে পারে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বি, প্রতিপক্ষ। যেকোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি থাকা দরকার বাস্তবে আওয়ামী লীগের তা আছে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দলকে আর আলাদা করে চেনা যায় না। সরকারের মধ্যে দল হারিয়ে যায়। সরকার এখন মূলত প্রশাসননির্ভর।

আওয়ামী লীগ টানা দশ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। এটা একটি রেকর্ড। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। কিন্তু এই সময়কালে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে, এমনটা দাবি করা যাবে না। দলের মধ্যে যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে, কোন্দল রয়েছে তা দূর করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দশ বছরে দলের মধ্যে দলাদলি বেড়েছে বৈ কমেনি। নেতাদের সঙ্গে, বিশেষ করে মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের দূরত্ব বেড়েছে। দলের শীর্ষ নেতাদের কতজন দলের জন্য কতটুকু সময় দিয়েছেন সেটা নিয়ে একটি গবেষণা করা যেতে পারে।

দলের কোথায় কী সমস্যা আছে, কীভাবে তা দূর করা যায় তা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে চিন্তা-পরিকল্পনা আছে বলেও মনে হয় না। সাধারণ কর্মীদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার সময়ও অনেক নেতার নেই। তবে নেতারা সবাই ব্যস্ত, এটা ঠিক। কী নিয়ে ব্যস্ত তা অবশ্য সাধারণ কর্মীসমর্থকদের জানার কথা নয়।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে একটি বাড়তি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে হয়। দশ বছরে যারা নানা উপায়ে ভাগ্য গড়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের সঙ্গে সুযোগ-সুবিধা না-পাওয়াদের একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে, বৈরিতা তৈরি হয়েছে। যারা সুযোগবঞ্চিত তাদের মনোভাব এই রকম : আমাদের কথা যেহেতু সরকারের কেউ ভাবেনি, আমরাও তাই এখন দলের কথা ভাববো না। সরকার যাদের কথা ভেবেছে, তারাই এখন দলের কথা ভাবুক! অনেকের মনেই নানা কারণে হতাশা ও বেদনাবোধ আছে। সবাইকে হয়তো খুশি করা সম্ভব নয়। ভালো ব্যবহার দিয়েও অনেক ক্ষোভ-অসন্তোষ দূর করা যায়। সবাই শুধু বৈষয়িক সুবিধা চান না, কেউ কেউ উপযুক্ত মর্যাদা চান। এই বিষয়টি কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিবেচনায় আছে?

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, এবার প্রায় সব আসনেই প্রার্থীর সংখ্যা একাধিক। সবাই এমপি হতে চায়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনও ঘটছে, যে প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা মোটেও নেই, সেই প্রার্থী বিজয়ের সম্ভাবনা যার বেশি তাকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছেন। প্রকাশ্যেই বলা হচ্ছে ‘অমুক’ মনোনয়ন পেলে তাকে হারিয়ে দেওয়া হবে। এ ধরনের প্রচারণা কার্যত প্রতিপক্ষকেই সহযোগিতা করছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করছে আওয়ামী লীগ।

যেখানে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগের আসন ধরে ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন, সেখানে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে কাজ করছে। এই আত্মঘাতী তৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ফলাফল ভালো হবে কি? সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ