প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাক্ষাণ খাশোগির বান্ধবীর

আরিফুর রহমান তুহিন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হোয়াইট হাউজের আমন্ত্রণ প্রত্যাক্ষাণ করে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির বান্ধবী হেতিস চেঙ্গিজ বলেছেন, খাাশোগি হত্যার সাথে জড়িতদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি দাড় করাতে হবে। শুক্রবার তুরস্কের গণমাধ্যম হেবারতার্ককে দেওয়া এক আবেগময় সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বলেন। তুরস্কের প্রধান প্রসিকিউটর আনকারায় ঘটনা তদন্তে আসবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের এমন ঘোষণার কয়েকঘণ্টা পরেই তিনি প্রথমবারের মত কোনো টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িত উপর থেকে নিচ সকল স্তরের বিচার ও শাস্তি দাবি করছি। তার দেওয়া (ট্রাম্পের) এই আমন্ত্রণ জনগণের আকর্শন নেওয়া বই কিছু না।’ তুরস্কের দেওয়া তথ্যকে সত্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাশোগি হত্যা নিয়ে তুরস্ক সরকার যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে সেগুলো সঠিক। এমনকি সময়গুলো সঠিক ছিল।

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি মার্কিণ গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট। সৌদি রাজ পরিবার বিশেষকরে রাজপূত্র মোহাম্মদ বিনা সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন তিনি। গত ২ অক্টোবর তার সাবেক স্ত্রীর ডিভোর্সের কাগজ সংগ্রহের জন্য তুরস্কের বান্ধবী হেতিককে বাইরে রেখে দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে আনকারার সৌদি দূতাবাসে পবেশ করেন তিনি। দূতাবাসে প্রবেশের পূর্বে কিছুটা চিন্তিত খাশোগি তার বান্ধবিকে বলেন, তিনি যদি বের হতে দেড়ি করেন তাহলে যেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের উপদেষ্টাকে খবরটি জানানো হয়। দিনভর অপেক্ষা করে খাশোগির বান্ধবী। পরের দিনও তিনি না ফেরায় বিষয়টি সবাইকে অবগত করলে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় উঠে খাশোগিকে নিয়ে।

অনেক আবেগি কণ্ঠে এই নারী বলেন, ‘আমি এখন নিজেকে অন্ধকারের মধ্যে খুঁজে পাই। এটা আমি কখনোই কাউকে বোঝাতে পারবো না। খাশোগি হত্যার পরবর্তি সময়গুলোকে আমি কিছুতেই মিলাতে পারছি না। যদি এটা বুঝতে পারতাম যে- সৌদি সরকার তাকে নিয়ে ঘৃণ্য নকশা করছে তাহলে কখনোই তাকে (খাশোগিকে) দূতাবাসে প্রবেশ করতে দিতাম না।’
খাশোগি নিখোজের পরপরই সন্দেহের তির বিদ্ধ হয় সৌদি আরবের দিকে। তবে সৌদি বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। এরই মধ্যে তুরস্কের গণমাধ্যম খাশোগিকে হত্যার জন্য সৌদি থেকে লোক এসেছিল- এমন সংবাদ প্রচার করে এবং খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায়। তারা দূতাবাসের ভিতরের এবং বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে হত্যাকারিদের ছবি প্রকাশ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের প্রভাবশালি দেশগুলো খাশোগির বিষয়ে সৌদিকে চাপ প্রয়োগ করলে সৌদির পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাশোগি দূতাবাসে দস্তাদস্তির সময় নিহত হয়ছেন। তবে এই ঘটনার সাথে সৌদি রাজপরিবারের কেউ জড়িত নয়।

সাক্ষাৎকারে চেনগিজ পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। চেনগিজ জানান, খাশোগির তুরস্কে অনেক প্রভাব ছিল। সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের সাথেও তার ব্যাপক জানাশোনা ছিল। তাই ভেবেছিল তুরস্ক তার জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এমনকি দূতাবাসে প্রবেশের সময়ও তিনি ছিলেন স্বাভাবিক। কখনোই ভাবেননি সৌদি তাকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে।
সৌদির বিবৃত্তির পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তাইয়েপ এরদোগান এক বক্তব্যে বলেন, তিনি সৌদি রাজপূত্র মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই ঘটনার জন্য দায়ি করছেন না। তবে তিনি এই ঘটনায় সৌদি সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যাকারিদের তুরস্কের হাতে সোপর্দ করার দাবি জানান। এছাড়া বিশ্বের নামিদামি ব্যবসাীয়রা সৌদি সাথে আর ব্যবসা না করার ঘোষণা দেন। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে সৌদি সরকার বিশেষকরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রয়েছেন।
এদিকে আনকারার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সাথে সৌদি সরকারের সরসরি জড়িত এমন অভিযোগ বন্ধ করতে চান তারা। এজন্য তারা সৌদি সরকারের কাছে এই ঘটনার মদদতাদের নাম প্রকাশের জন্য আবেদন জানান।

সূত্র : আলজাজিরা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ