প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভাঙ্গুড়ায় জলাশয় ভরাট

কালের কন্ঠ : পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরে রেলওয়ের আওতাধীন প্রায় এক একর আয়তনের জলাশয় ভরাট করছে এবিসি নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ভরাট বন্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার নোটিশ দিলেও তাতে কর্ণপাত করছে না তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীপথে নৌকাযোগে বাইরে থেকে বালু এনে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডের পাশে রেলওয়ের জলাশয়টি ভরাট করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ভরাট শেষ হলে ভরাটকারী প্রতিষ্ঠান এবিসি জায়গাটি প্লট আকারে বিক্রি করবে বলে তারা শুনেছে।

রেলওয়ের রাজশাহী অফিসের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (পশ্চিম) আব্দুল মান্নান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া বাজারের এবিসি নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আড়াই মাস আগে রেলওয়ের ওই জলাশয় ভরাটের কাজ শুরু করে। ওই সময় এলাকাবাসী ভরাটের বিষয়ে রাজশাহী রেলওয়ে অফিসে অভিযোগ দেয়। তখন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জলাশয় ভরাট বন্ধ করতে এবিসিকে মৌখিক ও লিখিতভাবে নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নির্দেশ অমান্য করে ভরাট কার্যক্রম চালু রাখে। একপর্যায়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের চাপে বালু ফেলা বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর গত দুই মাস সেখানে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার দুই দিন ধরে পুনরায় জলাশয়ে বালু ফেলতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মাছ চাষের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম মওলাসহ কয়েকজন ওই জলাশয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নেয়। এরপর দুই দশক ধরে তারা মাছ চাষ করে। পরে বিভিন্ন হাতবদল হয়ে দুই বছর আগে সম্পূর্ণ জলাশয়টির মালিকানা নেয় এবিসি নামের প্রতিষ্ঠানটি। এখন তারা জলাশয় ভরাট করে প্লট বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে নিষেধ করলে কয়েক দিন বালু ফেলা বন্ধ রাখা হয়। পরে কিছুদিন রাতের আঁধারে বালু ফেলা হয়। এখন দেখছি দিনেও ফেলা হচ্ছে।’

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জোসনা পারভীন বলেন, ‘রেলের জায়গা দখল নিয়ে কিছুই বলার নেই। ওই জলাশয়ে আমারও জায়গা ছিল। তিন বছর আগে ইজারা দিতাম। এখন আমি সেখান থেকে বিতাড়িত।’

এ বিষয়ে এবিসির ব্যবস্থাপক মহির উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনেক টাকা দিয়ে তাঁরা জলাশয়টি কিনেছেন। এ ছাড়া পাঁচ বছরের জন্য ওই জলাশয়ের ইজারা বাবদ রেলের সব পাওনা পরিশোধ করা আছে। তাই এখন তাঁরা এটি ভরাট করছেন। তা ছাড়া আশপাশের সবাই রেলের জায়গা ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেছে। কিন্তু তাঁরা কাজ শুরু করতেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বাধা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (পাকশী) নাজমুল হক বলেন, ‘জলাশয় ভরাটের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে রাজশাহী অথবা সিরাজগঞ্জ অফিস জানতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি (পশ্চিম) কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ভরাটের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ