প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায় ভারত

বাংলা ইনসাইডার : নির্বাচন পেছানো নিয়ে যে উদ্যোগ মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিকরা গ্রহণ করেছে, ভারত তা নাকচ করে দিয়েছে। বরং ভারত মনে করছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে নির্বাচন হোক, এটাই ভারতের আকাঙ্খা। সম্প্রতি উপ সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস জি ওয়েলস বাংলাদেশ সফর করে বিভিন্ন মহলের কাছে সংবিধানের ১২৩ এর (খ) ধারা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন মার্চ-এপ্রিলে করার ব্যাপারে প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবটি লুফে নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ সরকারের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

তবে সরকার বলেছে, সেভাবে নির্বাচনে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভেঙ্গে গেলেই কেবল সংবিধানের ১২৩ এর ‘খ’ ধারা প্রযোজ্য হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে সংসদের মেয়াদ অবসান হলে তখন ১২৩ এর ‘খ’ কোন ভাবেই প্রযোজ্য হবে না।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ১২৩ এর ‘খ’ হলো আনপ্রিসিডেন্টেড একটা ব্যাপার। দেশে অনাকাঙ্খিত কোন পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় বা কোন কারণে যদি সংসদ নেতা মনে করেন, তিনি সংসদ ভেঙ্গে দেবেন বা এমন কোন পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় যে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে বা যদি সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, সে রকম অবশ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ১২৩ এর ‘খ’ ধারা প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান সংসদ অন্য কোন কারণে ভেঙ্গে যাচ্ছে না বরং সংসদের স্বাভাবিক মেয়াদের অবসান ঘটছে। কাজেই মেয়াদ অবসানের ৯০ দিন পূর্বে অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে।

মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট গত সপ্তাহ জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তাবনা নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছেন এবং তিনি আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতার সঙ্গেও এই নিয়ে অনেক আলাপ আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়নও চাইছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা ন্যূনতম সমঝোতা। ঐক্যমত সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন যেন গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যে পিছিয়ে দেয়া হয়।

তাঁরা মনে করছে, এখন যদি নির্বাচন তফসীল ঘোষণা করা হয়, তাহলে আলাপ-আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। আবার বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের পথে হাটতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছে। এমনকি যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এমন তথ্যও পেয়েছে, এক তরফা নির্বাচন হলে এবার জাতীয় পার্টিও নির্বাচন বর্জন করতে পারে। একতরফা নির্বাচন হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়বে, তেমনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের অধিকারও লঙ্ঘিত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছে।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহন করবে এবং নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ীই হবে। তিনি বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, সংবিধানে বলা হয়েছে, মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আমরা যতোদূর জানি, নির্বাচন কমিশন নির্বাচেনের তফসীল ঘোষণার জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত। এটা নিয়ে যারা বিতর্ক করছে, তাঁরা নির্বাচন বানচালের সহযোগিতা করছে এবং দেশে সাংবিধানিক সংকটের চক্রান্ত করছে বলে তিনি মনে করেন।

আওয়ামী লীগের এই অবস্থানের সঙ্গে ভারতও সমমত পোষণ করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। কারণ ভারত মনে করছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশের নির্বাচন হয়ে যাওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ভারতের লোকসভার নির্বাচন আগামী বছর এপ্রিলে হওয়ার কথা। কাজেই, ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতের রাজনীতি এবং বিভিন্ন ক্রিয়াশীল শক্তিগুলো ভারতের নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। এজন্য তাঁরা সে সময় বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে নজড় দিতে পারবে না ও বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাতেও পারবে না। এজন্য ভারত চাইছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। ডিসেম্বরেই নির্বাচনের জন্য ভারত বিএনপি, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট সংলগ্ন দলগুলোকে নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন রকম কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ