প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের তল্লাশিকালীন ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ কতটা আইনসিদ্ধ?

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ : ঢাকায় পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশি চালানোর সময় এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঐ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টও গতকাল জমা দিয়েছেন, যদিও ওই নারীযাত্রীর সাথে কথা হয়নি তদন্ত কর্মকর্তার। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি অভিযানের সময় ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ করায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পুলিশের এই ধরণের আচরণ কতটা আইনসিদ্ধ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বুদ্ধিসম্মত হয়নি, এটি সংবিধান বিরোধী। কেউ বলছেন, এতে আইনের লংঘন হয়েছে ও পুলিশের দুর্নাম হয়েছে। কেউ বলছেন, এটির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এব্যাপারে পুলিশের সাবেক আইজিপি নূরুল আনোয়ার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ডিএমপি একটি বিবৃতি দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সামাজিকতায় নারীরা গভীর রাতে বের হয় না। আমরা মনে করি, নারীরা এত রাতে বের হবে কেন? আবার কখনো কখনো নারীকে বেরও হতে হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা এত রাতে বের হলেই মনে হয় এটা খারাপ। পুলিশেরও যারা ডিউটিতে ছিল তাদেরও হয়তো এমন ধারনা থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নারীদেরও রাতে বের হতে হয়। একটা মহিলা খারাপ কি ভাল তা তার নিজস্ব ব্যাপার। রাতের বেলা তার পুরুষসঙ্গী সাথে নাও থাকতে পারে। এজন্য তাকে তল্লাশী করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া ঠিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ সদস্যরা ওই মহিলার মোবাইল ফোন নাম্বার ও ড্রাইভারের নাম্বার রেখে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে এধরনের অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতো না। এভাবে ভিডিও করা, ভাইরাল করা উচিৎ হয়নি। এত পুলিশের ইমেজ নষ্ট হয়েছে।

আইনজীবিদের মতে, কোনো নারী পুলিশের অনুপস্থিতিতে একজন নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ভিডিও প্রকাশ করে আইনগতভাবে অপরাধ সংঘটন করেছেন ঐ নিরাপত্তা চৌকির পুলিশ সদস্যরা। আইনজীবি তানজীব উল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ঐ নারীর সাথে তিনটি অন্যায় করেছে পুলিশ। কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছাড়া তাঁকে তল্লাশি করা, তল্লাশির সময় ঘটনার ভিডিও করা এবং ঐ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা।” আইনজীবি মি. আলমের মতে, আইন অনুযায়ী এরকম ক্ষেত্রে একজন সাধারণ নাগরিককে হয়রানির দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরো পুলিশ বাহিনীর ওপর বর্তায়। এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস এ- পীস ফর বাংলাদেশ’র পরিচালক এ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভুইয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণের জন্য ভিডিও করতে পারে, সেটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু সেটা ফেসবুকে দিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, যা বেআইনী। যারা এটা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সুপ্রিমকোর্টের আরেক আইনজীবি ড. এম শাহজালাল বলেন, এটা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী এবং আইনসিদ্ধ। এটা পুলিশ কোনোভাবেই করতে পারেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ