প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়নে GIS সিস্টেম অত্যাবশ্যক

প্রকৌশলী নওশাদুল হক : বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সিস্টেমের প্রয়োজনে ভোল্টেজ স্টেপ আপ কিংবা স্টেপ ডাউন করা হয়। আর এই ট্রান্সফরমারের প্রটেকশন, বৈদ্যুতিক বিভিন্ন ম্যাজারিং এবং সুইচিং এর জন্য তার দুই সাইডে দুই সেট সুইচগিয়ার ব্যবহৃত হয়। ট্রান্সফরমার এবং সুইচগিয়ার এই দুই মিলেই বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র বা সাব-স্টেশন। বিদ্যুতের উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় এয়ার ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার যা AIS নামে অদ্যাবধি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যার সকল কম্পোনেন্ট এয়ার দ্বারা ইনসুলেটেড থাকে। আর এয়ারের মধ্যে আদ্রতাসহ বিভিন্ন ধরনের এয়ার পার্টিক্যালের রি-অ্যাকশানে এই সুইচগিয়ার সমূহে প্রায়শই বিভিন্ন ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। ফলে তা নিয়মিতই মেইনটেনেন্স ও ঘষামাজার প্রয়োজন পড়ে। ফলে দ্রুতই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায় সলিড অংশ সমূহ। এতে করে খুব কম সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন পার্টস পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। আর এতে করে মেইনটেনেন্স জনিত আর্থিক অপচয় ছাড়াও বিদ্যুতের প্রোডাকশনের কমতি না থাকা সত্বেও গ্রাহককে প্রায়শই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে হয়।
এহেন সমস্যার সমাধানে অনেক বেশি অগ্রগামী ও নিরাপদ গ্যাস ইন্সুলেটেড সুইচগিয়ার। যা GIS নামে পরিচিত। GIS সিস্টেমে কপার বাসবার সমূহের কন্ট্রাক্ট পয়েন্ট, ত্রি পজিশান সুইচ (আইসোলেটর,আর্থিং) ও Vacuum সার্কিট ব্রেকারটি SF6 গ্যাস দ্বারা ইনসুলেটেড থাকে। এই SF6 গ্যাস সুইচিং জনিত সৃষ্ট আর্ক নিবারণ করে থাকে। ফলে দুর্ঘটনা মুক্ত হয় পুরো সাব-স্টেশনসহ কনজুমারের বিভিন্ন এ্যাপ্লায়েন্স সমূহ। সাথে সাথে গ্রাহক পায় নিরবিচ্চিন্ন বিদ্যুৎ। এই GIS সিস্টেমে সার্কিট ব্রেকারের ইন্টারাপ্টারটি Vacuum প্রকোষ্ঠের ভিতরেই অপারেট হয়। Vacuum প্রকোষ্ঠের মধ্যে কন্টাক্ট জনিত আর্ক Vacuum এর ফলে খুব বেশি সম্প্রসারিত হতে পারে না। আর কোন কারণে আর্ক নিবারনে Vacuum যদি ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে গ্যাস চেম্বারের SF6 গ্যাস সেকেন্ডারি প্রটেকশান হিসেবে কাজ করে আর্ককে নিয়ন্ত্রনে রাখে। অর্থাৎ GIS সিস্টেমে সার্কিট ব্রেকারের ক্ষেত্রে ডাবল প্রটেকশান। গ্যাস চেম্বারের বাইরে কারেন্ট ট্রান্সফরমার, ভোল্টেজ ট্রান্সফরমার, রিলে, ডিসি সিস্টেম এবং ক্যাবল সমূহ হাই প্রটেকটিভ একটি প্যানেলে সুশৃঙ্খল ভাবে বসানো থাকে। যেগুলো রুটিন চেকআপের আওতাভূক্ত। গ্যাস চেম্বারের মধ্যকার কম্পোনেন্ট সমূহ মেইনটেনেন্স ফ্রি করে তৈরী করা থাকে। গ্যাস চেম্বারের ভিতরে অবস্থিত ত্রি-পজিশান সুইচে আইসোলেটর এবং আর্থিং ইন্টারলক করা থাকে। সাথে আরও কিছু কম্পোনেন্টের মধ্যেও ইন্টারলকিং সিস্টেম বিদ্যমান। ফলে অপারেটরের ভুল অপারেশনের কোনই সুযোগ নাই। এওঝ সিস্টেমটি মেইনটেনেন্স ফ্রি, ফেক্টরিতেই মেনুফেকচারিং এবং টাইপ টেস্টেড হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার চান্স খুবই কম। এই সুইচগিয়রটির লাইফ টাইম প্রায় পঁচিশ বছরের কাছাকাছি হয়ে থাকে। তবে সাব-স্টেশন ভবনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি মেইনটেইন করলে এর লাইফ টাইম পঁয়ত্রিশ বছর পর্যন্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।

পিডিবি, পিজিসিবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, আরইবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনগুলোতে ইদানিং AIS এর পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর GIS সিস্টেম স্থাপন শুরু হয়েছে। সনাতন হতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ক্রমে পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দেশের বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকাংশেই কমে যাবে। সাথে সাথে স্বস্তিতে থাকবে বিদ্যুৎ সেক্টরের কর্মীরা ও সকল গ্রাহক, সর্বোপরি এদেশের সরকার।
লেখক : প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ