প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে সংলাপে বাধ্য করতে হবে : জোনায়েদ সাকি

রফিক আহমেদ : গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির বলেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে সংলাপে বাধ্য করতে হবে।লুটপাটতন্ত্র প্রতিরোধ ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য চাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন। দশ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ যে চরম স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেছে, তা নজিরবিহীন। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ৩টায় জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, দশ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ যে চরম স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেছে, তা নজিরবিহীন। কিন্তু এই ক্ষমতার উৎস এমন একটি সংবিধান, যা দেশে ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে একব্যক্তির শাসন কায়েম করেছে। প্রধানমন্ত্রীই এখানে সব-ক্ষমতার মালিক। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সকল জাতীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকে প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বে রাখার কারণেই কারও কোন জবাবদিহিতা নেই, স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, এই অবস্থা অবসানে গণসংহতি আন্দোলন যে জাতীয় সনদ প্রস্তাব করেছে, সেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই সাথে জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে কোন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। কিন্তু সরকার জনগণের দাবি না মেনে দেশকে হানাহানির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে সংলাপে বাধ্য করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ফেরত আনতে হবে।
আবুল হাসান রুবেল তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের হুকুম তামিল করা নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া ছাড়া কোন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।

ফিরোজ আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, সরকার তার ক্ষমতা সুনিশ্চিত করতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাকট এর মত আইন করছে। শহীদুল আলমের গ্রেফতার গোটা জাতিকে বুঝিয়ে দিয়েছে, স্বাধীনভাবে কথা বলা এই দেশে চলবে না। দেওয়ান আবদুর রশীদ নিলু বলেন, সরকার কৃষক বান্ধব বলে নিজেদের দাবি করে। অথচ হাজার হাজার কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা করে তাদেরকে গ্রেফতার ও হয়রানির মাঝে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তাসলিমা আখ্তার বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা ১৬ হাজার টাকা মজুরি চেয়েছিল। তাদেরকে ৮,০০০ টাকা মজুরি দেয়ার কথা বলে সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, এই সরকার শ্রমিক বিরোধী। হাসান মারুফ রুমি বলেন, কিশোররা তাদের সড়ক সংস্কারের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, তরুণরা তাদেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রস্ততি গ্রহণ করছে। মুরাদ মোর্শেদ বলেন, আদালতকে চরমভাবে দলীয়করণ করে মানুষের আশ্রয় নেবার কোন জায়গা সরকার আর বাকি রাখেনি। আবু বকর রিপন জনসভা সফল করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের সর্বত্র গণসংহতি আন্দোলনকে শক্তিশালী করার জন্য আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো উচ্ছেদে গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য আগামী দিনে ধারাবাহিক সংগ্রাম গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনগণের ভোটাধিকার ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবং স্বৈরতন্ত্র-লুটপাটতন্ত্র প্রতিরোধের আহবান জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে শুক্রবার গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এবং কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আবদুর রশীদ নিলু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখ্তার, হাসান মারুফ রুমি; সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরউদ্দীন পাপ্পু, আবু বকর রিপন, মুরাদ মোর্শেদ, আরিফুল ইসলাম সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। জনসভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানান স্তরের নেতাকর্মী ও সংগঠকরা ফেস্টুন, প্রাকার্ড, লাল-পতাকা, জাতীয় ও দলীয় পতাকা সহকারে অংশগ্রহণ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ