প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সিলেটের সমাবেশে জিয়াউর রহমানের নাম কেউ বলেনি’

অনলাইন ডেস্ক : বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেটের সমাবেশে বিএনপির নেতারা জিয়াউর রহমানের নাম কেউ বলেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা যিনি দিলেন তার নামটি কেউ বলতে সাহস পাননি। কী মনে হয়? তারা কি আত্মসমর্পণ করেছেন, কার কাছে? এবং কেন? এ দুটি প্রশ্ন জনগণের মনে থেকে যাবে।’

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বাড্ডায় বিকল্প যুব ধারার বিশেষ কাউন্সিলে তিনি একথা বলেন।

বি. চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের জনসভায় ৯৮ ভাগ মানুষ ছিল বিএনপির। বাকি দুই ভাগ অন্য দলের। ওই সমাবেশে উপস্থিত ৭০-৮০ ভাগ নেতা স্বাভাবিক কারণেই শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম স্মরণ করেছেন। ধন্যবাদ, যিনি এই দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাকে স্মরণ করেছেন নেতারা, এটাই স্বাভাবিক।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ জিয়াউর রহমানের নাম কেউ বলেননি। মাওলানা ভাসানী, শেরেবাংলার নামও কেউ উচ্চারণ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের মহাধিনায়ক ওসমানীর নামও কেউ উচ্চারণ করলেন না। তাদের কথা বলা উচিত ছিল না? জবাব দিতে হবে কেন বলেন নাই। আপনারা সত্যিই যদি মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে থাকেন, আপনাদের যদি সত্যিই স্বপ্ন ছিল এই রঙিন পতাকাকে সম্মান দেখানো, কিন্তু আপনার তা দেখান নাই।’

বি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেরও বাস্তবায়ন চাই, আবার মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা ফজলুল হকের স্বপ্নেরও বাস্তবায়ন চাই। আমরা উন্নয়ন চাই, গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ চাই।’

বিকল্প ধারা সভাপতি বলেন, ‘আমরা ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে নেই। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে নেই বলেই জোট ছেড়ে অনেকে বেরিয়ে এসেছে। আমরা জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পক্ষে লড়াই করবো। তার রাজনীতির উত্তরাধিকার আমাদের হাতে। উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করবো। সেই উন্নয়নের পাশাপাশি গণতন্ত্রও থাকবে।’

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের সমালোচনা করে তা এখনই বাতিল করার আহ্বান জানান বি. চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। সাহসের সঙ্গে অবিলম্বে এই আইন বন্ধ করুন।’

প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বি. চৌধুরী বলেন, ‘আলোচনা ছাড়া পৃথিবীর কোথাও সমাধান হয় না। আপনার কাছে দাবি করছে, আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, এটাই সবচেয়ে বড়। আপনি উদারচিত্তে এগিয়ে আসুন। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সব দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করুন।’ গণগ্রেফতার বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির সঙ্গে ঐক্য না হওয়ার কারণ জানিয়ে বি. চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিএনপিকে বলেছিলাম আপনারা ১৭৫টি আসন নিন, বাকি সব দলের জন্য ১২৫টি আসন। আমি তো বলিনি বিকল্প ধারাকে ১২৫ আসন দিতে হবে। এই ভারসাম্য যারা অস্বীকার করে, তাদের সঙ্গে কীসের ঐক্য। আমরা ভারসাম্যের রাজনীতি চাই।’

এই অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি গোলাম সারোয়ার মিলন ও পেশাজীবী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বিকল্প ধারায় যোগ দেন।

শুক্রবার বিকল্প শ্রমজীবী ধারার কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে আইনুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক সুমন নির্বাচিত হন। কাউন্সিলে ৮১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ