প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছেই

শাকিল আহমেদ: স্টপেজ ছাড়া যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠা-নামা, বাড়তি ভাড়া আদায়, গাড়িতে চালক-হেলপারের প্রয়োজনিয় তথ্য না ঝুলানো, গেট খোলা রাখা, এবং যাত্রী হয়রানিসহ আগের মতোই চলছে রাজধানীর গণপরিবহন। এক কথায় কোন নিয়মই মানছে না পরিবহণ চালক এবং মালিক কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন খাতে বিশৃংঙ্খলা নতুন কিছু নয়। তাই প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে দূর্ঘটনা। সড়কে ঝরে পড়ছে তাঁজা প্রাণ, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সম্প্রতি তিতুমীর কলেজের এক ছাত্রের হাত হারানোর পরে মৃত্যু ও শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নড়েচড়ে বসে সরকার। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। কিন্তু খুলে যাওয়া সেই চোখ বন্ধ হতে সময় লাগেনি। দুই মাস পার না হতেই আবার আগের অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে পরিবহন ব্যবস্থা।

বুয়েটের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সামছুল হক বলেন, মেয়র আনিসুল হকের নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার পরিবহনে শৃংঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। গুলশানে ঢাকার চাকা নামে যে বাস সার্ভিসটি চালু আছে সেখানে তো যাত্রী তোলার কোন প্রতিযোগিতা নেই। তা হলে একই ঢাকায় দুই চিত্র কেন? আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে একটা সচেতনতা এসেছে। তাই নিরাপদ সড়ক গড়তে পুলিশ ও বাস মালিকদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

পরিবহনে শৃংঙ্খলা ফেরাতে স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ করাসহ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে পরিবহনের ফিটনেস ও লাইসেন্স, পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নের জন্য ১৭টি নির্দেশনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। নির্দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো-২০ আগস্টের মধ্যে ঢাকায় চলমান সব গণপরিবহন চলাচল অবস্থায় দরজা বন্ধ রাখা এবং বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। একই সময়ের মধ্যে গণপরিবহনে দৃশ্যমান দু’টি স্থানে চালক এবং হেলপারের ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স, মোবাইল নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। মহাসড়কে চলমান সব

পরিবহনসমূহকে সিট বেল্ট সংযোজনের করা। ৩০ আগস্টের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস সমূহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় লাইট, সিসিটিভি স্থাপন এবং ১শ’ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করা। এছাড়া ১৮ আগস্ট মধ্যে নগরীর সব সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা, ফুটপাত হকার মুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করা। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের রোড ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সব সড়কের নাম ফলক দৃশ্যমান স্থানে সংযোজনের নির্দেশ দেয়া হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। এছাড়া মোটরসাইকেল দু’জন আরোহীর হেলমেট বাধ্যতামূলক করা। অবৈধ পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফিটনেস দেওয়ার প্রক্রিয়াতে অবশ্যই পরিবহন দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া গত ৮ আগস্ট সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজধানীতে চুক্তি ভিত্তিক কোন গণপরিবহন চলবেনা। যে কোম্পানি এটা মানবে না তার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

কিন্তু রাজধানীতে এখনো চলছে ফিটনেস এবং লাইসেন্সবীহিন গণপরিবহন। এছাড়া এখনো চলছে চুক্তিভিত্তিক পরিবহন চালকদের যাত্রী তোলার অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা। সিটিং সার্ভিসের নামে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি ভাড়া । গাড়িতে চালক হেলপারদের পরিচয়পত্রসহ ছবি ঝুলানোর কথা থাকলেও সরকারি বিআরটিসি বাস ছাড়া বেসরকারি কোন গাড়ীতে এ রকম কোন চিত্র দেখা যায়নি। সাভার থেকে গুলিস্থানগামী ওয়েলকাম, ঠিকানা, মৈামিতা,সাভার পরিবহনসহ রাজধানীর বেশ কয়েকজন চালক ও হেলপার বলেন, গাড়িতে ছবি রাখার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। মালিকরা আমাদেরকে এবিষয় কিছু বলেনি এবং পুলিশ কিছু জানায়নি তারা শুধু লাইসেন্স চেক করে ছেড়ে দেয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহা সচিব মোজম্মেল হক চৈাধুরী বলেন, বেশিরভাগ পরিবহনের মালিক প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং সমাজের প্রভাবশালী। যে কারনে কোন একটি দুর্ঘটনা ঘটলে এর কোন বিচার হয় না। আর এই বিচারহীনতার কারনে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছে।

ওয়েলকাম পরিবহনের যাত্রী মো.নয়ন হাওলাদার বলেন, সিটিং সার্ভিসের নামে ডাকাতি করছে কন্ট্রাকটাররা। ১০ টাকার ভাড়া সিটিং বলে ২০ টাকা নিচ্ছে। শুধু সার্জেন্ট দেখলে তারা গেট বন্ধ করে এছাড়া ড্রাইভাররা যেখানে সেখানে যাত্রী তুলে আবার এর প্রতিবাদ করলে নিজেকেই অপমান হতে হয়। আন্দোলনের পর কিছুদিন ঠিক ছিলো এখন আবার আগের মতই জুলুম করছে। কি আর করার আমরা চলতে বাধ্য।

এবিষয় জানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহকে ফোন করলে তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানি খন্দকার বলেন, আমাদের বেশির ভাগ পরিবহন চুক্তি নয় ওয়েবিলে চলছে। তবে কিছু কিছু যায়গায় অনিয়ম হচ্ছে আমরা এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। একটি সমস্য থেকে রাতারাতি মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, আমাদের চালক ও হেলপাররা কেউই এক গাড়িতে নিয়মিত কাজ করে না তাই পরিচয়পত্র ও ছবি ঝুলাতে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এবিষয়ে ধানমন্ডি জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আকরাম হাসান বলেন, গাড়িতে চালক ও হেলপারের ছবি রাখার নিয়মটি এখনো চালু হয়নি। একটি অশিক্ষিত মহলে এরকম একটি পদ্ধতি চালু করতে সময় লাগবে। তবে যত্রতত্র যাত্রি তোলাসহ গেট বন্ধ গাড়ি চালানোর বিষয়টি আমরা মনিটরিং করছি। তবে এখানে যাত্রিদের ভুল রয়েছে। যাত্রিরা যেখানে সেখানে গাড়ী থামাতে চালকদের বাধ্য করছে। সম্পাদনা-মাহবুব আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ