প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে তালতলীর সর্বত্র সাজ সাজ রব

মোঃ জয়নুল আবেদীন,আমতলী (বরগুনা): শনিবার (২৭অক্টবর) প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরগুনার উপকুলীয় উপজেলা তালতলীতে আসবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত তালতলীর লক্ষ জনতা। তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আয়োজিত তালতলী সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে উপজেলা ব্যাপী। রঙ্গিণ সাজে সেজেছে তালতলীর অলিগলি। বর্ণিল সাজে সেজেছে প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চ। আলোর ঝলকানিতে উৎসবের ফানুসে ভাসছে গোটা দক্ষিণাঞ্চল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে লক্ষ জনতা। উপজেলার সর্বত্র উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যানার ও ফেষ্টুনে ছেঁয়ে গেছে সভাস্থল থেকে শুরু করে জনসভা মাঠ প্রাঙ্গণ ও উপজেলা শহর। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সভাস্থলসহ আশে পাশের এলাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৪ অক্টোবর দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে আয়োজিত টেলি কনফারেন্সে আমতলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের সুধী সমাবেশে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর পরিদর্শণে আসবেন বলে ঘোষনা দেন। ওই সময়ে আমতলী-তালতলীতে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর পরপরই বরগুনার তালতলী উপজেলায় তাঁর সফর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে প্রধানমন্ত্রীর তালতলীতে আগমনকে ঘিরে বরগুনা জেলার সর্বত্র বইছে উৎসবের আমেজ। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বরগুনা-৩ (আমতলী- তালতলী) আসন থেকে জয়লাভ করেন। টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার এটা দ্বিতীয়বার তালতলী সফর। এর আগে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি সর্বশেষ তালতলী সফর করেন এবং একই মাঠে লক্ষ জনতার মাঝে ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব -১ কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে উল্লেখ আছে আগামীকাল শনিবার সকাল ১০ টায় হেলিকপ্টার যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অবতরণ করবেন। ওই স্থানে ১৬ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে দুপুর আড়াইটায় আকাশ পথে বরগুনার তালতলী জনসভা মঞ্চে আসবেন।

বিকেল পৌঁনে তিনটায় বরগুনার বিভিন্ন উপজেলার ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে বিকেল তিনটায় তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ উদ্যোগে আয়োজিত তালতলী সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের বিশাল জনসভায় ভাষণ দিবেন।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো বরগুনা সদর হাসাপাতাল ৫০ শয্যা থকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বরগুনা জেলা গ্রন্থাগার, বরগুনা পুলিশ লাইনের নারী ব্যারাক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের হোষ্টেল নির্মাণ, ঘূর্ণিঝড়, বরগুনা সদর ইউনিয়ন ভুমি অফিস, ডৌয়াতলা ইউনিয়ন ভুমি অফিস, বুড়িরচর ইউনিয়র ভুমি অফিস, হোসনাবাদ ইউনিয়ন ভুমি অফিস, সিডর ও আইলায় উপকূলীয় এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ পূর্নবাসন, বরগুনা- বাকেরগঞ্জ- কাঁঠালতলী- পাদ্রীশিবপুর-সুবিদখালী সড়ক, হাজার বিঘা-কামরাবাদ-পুরাকাটা ফেরিঘাট সড়কের চেইনেজ ও আরসিসি গার্ডার সেতু নিমাণ, বরগুনা সদরের গৌড়িচন্না ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলার বদনাখালী খালের উপর গার্ডার সেতু নির্মাণ, তালতলী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা পরিষদ ভবন, আমতলী থানা ভবন, আমতলী ইউনুস আলী খান কজেলের ৪র্থ তলা একাডেমি ভবন কাম সাইক্লোন সেল্টার, এম বালিয়াতলী ডিএন কলেজের ৪র্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন সেল্টার, সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রী কলেজের ৪র্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন সেল্টার, তালতলী প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র, তালতলী ও বামনা উপজেলায় একটি বাড়ী একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ভবন।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে আমতলী-তালতলী উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সুচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বরগুনার আমতলী-তালতলীসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদিনই আনন্দ মিছিল করছে আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করার লক্ষে জেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তালতলীর আগমনকে কেন্দ্র করে বরগুনা জেলা, আমতলী ও তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতারা আমতলীতে জেলাকরণ, উপকূলীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণ, তালতলীতে পৌরসভায় উন্নীতকরণ ও তালতলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপন, রাখাইনদের কালচারাল একাডেমী স্থাপন, তালতলীতে মৎস্য প্রজনন ও আহরন কেন্দ্র স্থাপন, সোনাকাটা ইকোপার্ক ও নলবুনিয়া শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত পর্যটন কেন্দ্র উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নীতকরণ, তালতলীতে সোনালী ব্যাংক স্থাপনসহ অর্ধশতাধিক দাবী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে উত্থাপন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।

তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তালতলী আশায়, তালতলীবাসী ধন্য। এই একই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী দুইবার জনসভা করেছেন। এরচেয়ে তালতলীবাসীর আর কিছুই চাওয়ার নেই।” তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তালতলীতে উপজেলা করেছেন। তার তালতলী উপজেলা তিনিই সকল উন্নয়ন করবেন।”

বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিনত করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা শেখ হাসিনা তালতলীতে আগমনে দক্ষিনাঞ্চলে উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত হবে। বরগুনাবাসীর দাবীগুলো প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস করি।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে তালতলী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।। তিনি আরও বলেন পুরো জেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্তক অবস্থানে থাকবে।”

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনে গোটা দক্ষিণাঞ্চল হবে উন্নয়নের রোল মডেল। আর বরগুনা জেলা হবে সেই উন্নয়ন মডেলের প্রবেশ দ্বার। আশা করি প্রধানমন্ত্রী বরগুনার উন্নয়নে সর্বাত্মক ভুমিকা রাখবেন।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ