প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেশির ভাগ হাসপাতালে নেই মানসিক রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

হ্যাপি আক্তার : দেশের ৫০টির বেশী জেলা হাসপাতালে নেই মানসিক রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞতা আর চিকিৎসকের অভাবে শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় পড়ছে ভুক্তভোগী ও স্বজনরা। নাগালের মধ্যে চিকিৎসক না থাকায় আক্রান্তরা ভুল চিকিৎসাতেই খোয়াচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। জেলা হাসপাতালগুলোতে শয্যা বরাদ্দ না থাকায় মানসিক রোগীকে বারবার ঢাকায় আনা নেওয়া করতে যেয়ে দিশেহারা স্বজনরাও। প্রান্তিক স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাময়িক সঙ্কট নিরসন হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৃষ্টির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত কিশোরগঞ্জের মিনা। অজ্ঞতা ও চিকিৎসকের অভাবে ৭ বছর ভুল চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। অবশেষে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে কয়েক বছরের ধারাবাহিক চিকিৎসায় সুস্থতার দিকেই হাঁটছেন তিনি।

মিনা বলেন, ‘ডাক্তার ছাড়া কি কবিরাজ এই রোগ ভালো করতে পারে। তার পরেও আমরা না বুঝে তাদের কাছে যাই। কবিরাজ তো ভন্ডামী-বাটপারি করে।’

এদিকে নাগালের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে পঞ্চাশের অধিক জেলার রোগীরা কবিরাজ, পীর, অদক্ষ গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে অর্থক্ষতির সাথে বহুগুণে শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় পড়ছে ভুক্তভোগী ও স্বজনরা।

স্বজনরা বলেন, ‘জেলায় জেলায় যদি মানসিক হাসপাতাল থাকতো তাহলে এতো কষ্ট করে ঢাকায় আসার প্রয়োজন হতো না। কবিরাজের কাছে ছুটতে হতো না। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রতি জেলায় হাসপাতালের জন্য সরকাররের কাছে আহ্বান তাদের।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় সোয়া ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত। অথচ আক্রান্তদের মাত্র ১০ থেকে ১৫ ভাগ পাচ্ছে প্রকৃত সেবা। দ্রুত জেলা হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য শয্যা নিশ্চিত করতে না পারলে পারিবারিক কলহ, আত্মহত্যার প্রবণতা এবং ব্যাপকভাবে কর্মহীন জনশক্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ব্রি. জে অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, প্রতি জেলায় একজন করে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের বিকল্প নেই। প্রথমিক চিকিৎসক যারা আছেন তাদের যদি এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাহলে সবচেয়ে কার্যকর কাজ হবে।

দীর্ঘমেয়াদী হলেও জেলা হাসপাতালে মানসিক রোগের অন্তত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করার কথা ভাবছে সরকার।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম বলেন, জেলার হাসপাতালগুলোতে মানসিক রোগের ওষুধ নেই। যার কারণে পরবর্তীতে রোগীর প্রেসক্রিপশন হয় না। সরকারের কাছে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে উপজেলা এবং জেলা হাসপাতালে যেনো এই রোগের ওষুধ রাখা হয়।’

সোয়া ২ কোটি রোগীর বিপরীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা আড়াইশোতেও পৌঁছেনি। তাই ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে কুসংস্কার দূর ও সাধারণ চিকিৎসকদের মানসিক রোগ প্রতিরোধের প্রশিক্ষণ প্রদানের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সূত্র : সময় টেলিভিশন