প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই প্রথম বিশ্বব্যাংক থেকে সুদে ঋণ নিলো বাংলাদেশ

সাইদ রিপন: এই প্রথম বিশ্বব্যাংক থেকে সুদে ঋণ নিলো বাংলাদেশ সরকার। ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্পে’ ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ নেবে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) তহবিলের ঋণে এতোদিন কোনো সুদ ছিল না। শুধু সার্ভিস চার্জ ছিল শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমেই বিশ্বব্যাংক সুদ হার বাস্তবায়ন শুরু করলো। শুধু সুদের হারই যোগ করা হয়নি, পাশাপাশি কমে এসেছে রেয়াতকাল ও ঋণ পরিশোধের সময়ও। এতদিন ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (রেয়াতকাল) ৩৮ বছরে ঋণ পরিশোধের নিয়ম ছিল। কিন্তু এ প্রকল্প থেকে ৫ বছরের রেয়াতকাল এবং ৩০ বছরে ঋণ পরিশোধের নিয়ম চালু হলো। প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ২৪ কোটি ডলার (স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা)।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ঋণ চুক্তিটি সই হয়। বাংলাদেশ সরকাররে পক্ষে ঋণ চুক্তিতে সই করেন ইআরডির সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জাহিদ হোসেন।

বিশ্বব্যাংকের ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, একটুকু বেশি সুদে এই প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে সেটি কোনো সমস্যা হবে না। প্রকল্পটি নীল অর্থনীতিকে উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে। বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কৃষি খাতের যে প্রবৃদ্ধিতে মৎস্য খাতের অবদান অনেক। জাতীয় অর্থনীতিতে ৩ শতাংশ অবদান রাখছে মৎস্য খাত। এছাড়া মোট কৃষি খাতের যে প্রবৃদ্ধির ২ শতাংশ আসে মৎস্য খাত থেকে। গত কয়েক বছরে মৎস্য উৎপাদন তিন থেকে চার গুণ বেড়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে যারা যুক্ত অর্থাৎ মৎস্যজীবীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেনি। বছরের একটি বড় সময় তারা কাজ পায় না। ফলে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জীবন চালায়। পরবর্তীতে কম দামে মৎস্য আগাম বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এই প্রকল্পটি একদিকে যেমন নীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, তেমনি মৎস্যচাষীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে মৎস্য জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে চিংড়ি, তলদেশীয় ও ভাসমান প্রজাতির মৎস্যে মজুদ নিরূপণ জোরদার করা সম্ভব হবে। এছাড়া ব্লু-ইকনোমি ব্যবস্থাপনা জোরদারের জন্য সরকারি গবেষণা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্রায়ন ও বাণিজ্যিক মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে কার্যকর পরিবীক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ