প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পোস্তগোলা ব্রিজে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ ২

সুজন কৈরী: রাজধানীর পোস্তগোলায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর টোলের হার নিয়ে নিয়ে অসন্তুষ্ট পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সোহেল নামের একজন চালক নিহত হয়েছেন। এছাড়া মাসুদ ও আকাশ নামের গুলিবিদ্ধ দুই শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টোলের হার নিয়ে শুক্রবার সকালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এর একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংঘর্ষস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ একজনকে ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মহেন্দ্র গাড়ির চালক সোহেল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন শ্রমিকদের দাবি।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক কারিমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ আমাদের এখানে এসেছিল। তার বুকের নিচে ও পেটের উপরে গুলির জখম ছিল। পুলিশ এসে লাশটি নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, আমি একজন নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত করা যাবে।

জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টায় টোল বাড়ানোকে কেন্দ্র করে টোল প্লাজায় কর্মরতদের সঙ্গে ট্রাক শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ এ সংঘর্ষ থামাতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় শ্রমিকরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রবার বুলেট ছুড়ে। এ ঘটনায় সেতুতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্রিজের দুই পাশেই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। সংঘর্ষে শ্রমিক-পুলিশ মিলিয়ে অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়িও ভাংচুর করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, বহু শ্রমিককে পুলিশ আটক করেছে।

শ্রমিকরা বলছেন, সেতুতে আগে ট্রাকের টোল ছিল ৩০ টাকা। গত ২২ অক্টোবর সেই টোল বাড়িয়ে ২৪০টাকা করা হয়। হঠাৎ করে এত বেশি টোল বাড়ানোয় তারা বিপাকে পড়েছেন। টোল কমিয়ে আনার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করেছিলেন পরিবহন শ্রমিকরা।

বুড়িগঙ্গা নদীর উপর এই সেতুর টোল বাড়ানোর প্রতিবাদে ২০১৫ সালে অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভে ৩ দিন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়।

কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ