প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্ধ হচ্ছে না মানবপাচার
বৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ

আনিসুর রহমান তপন : সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না মানবপাচার। ভারত, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে বাংলাদেশের অনেক মানুষ। ভালো চাকরিসহ নানা প্রলোভনে পাচারকারী চক্র নিরীহ মানুষদের বিদেশে পাচার করছে। এমনই একটি চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ইউরোপ যাওয়ার পথে সিরিয়ায় আটক হওয়া ১৪ জনকে উদ্ধার করে এরইমধ্যে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী ফরিদা বেগম দূতাবাসকে অবহিত করেন যে; তার মেয়ে হ্যাপি আক্তারসহ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে শুকুর আলী নামের আরেক লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশি সিরিয়ায় পাচার করেছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধারের অনুরোধ জানায় সিরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ অনারারী কনসালকে। একইসঙ্গে বিষয়টি জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাসকেও জানানো হয়।

জানাগেছে, হ্যাপি আক্তারসহ এমন অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন সিরিয়ায়। সেখান থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ১৫ জনকে ফেরত পাঠানো হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, পাচারকারী শুকুর আলী, নুরু মিয়া ও হানিফসহ মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করে মানবপাচার দ্রুত বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মানবপাচারকারী চক্রগুলো সরলমনা মানুষদের মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ভারত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, চায়না, থাইল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, ইউকে, ইউএসএ, ইতালী, কানাডা, বলিভিয়া, মোজাম্বিক, নিউজল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশে মানবপাচার করে আসছে। সেখানে পৌঁছার পর আটক করে অন্ধকার ঘরে নির্যাতন করে এবং মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে এর আগে বিভিন্ন সময় লিবিয়া, মালয়েশিয়া, উগান্ডা এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে পাচারকৃত ভিকটিমদের উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে র‌্যাব। তারা জানায়, ভিকটিমদের স্থানীয় দূতাবাস এবং মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এসব অভিযোগে ২০১৭ সালে ৩৮টি অভিযানে মানবপাচারের অভিযোগে ১২৯ জনকে গ্রেফতারসহ পাচার হওয়া ৮৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারীকে উদ্ধার করেছে তারা। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১০৩টি। চলতি বছর এ পর্যন্ত মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করে। এসময় পাচারের শিকার ১৩ জন পুরুষ ও চারজন নারীকে উদ্ধার করা হয়। আর এতে মামলা হয় ছয়টি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনের লক্ষ্যে সরকার মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ করেছে। আইনে এই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে আমাদের সরকারের যে বিধি নিষেধ ও নিয়ম কানুন রয়েছে সেগুলো অনুসরণ করবেন। যারা না জেনে বিদেশে যায় তাদের বেশিরভাগ পাচারের শিকার হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তাদের করুণ পরিণতি আমি দেখেছি।

মন্ত্রী বলেন, ছোট ছোট জলযানে থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়া যাওয়া রোধ করতে কোস্টগার্ড বাহিনীকে শক্তিশালী করেছি। আমাদের নৌ পুলিশ, র‌্যাব এসব পাচারকারীর বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েছে। ফলে এখন তারা এই পথে যেতে পারছে না।

সম্প্রতি সৌদি ফেরত বিভিন্ন নির্যাতিত নারী কর্মীদের প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এরা ইচ্ছা করে গৃহকর্মী হিসেবে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গিয়ে সেখানে নির্যাতিত হয়েছে। তবে যেসব অভিযোগ আমাদের কাছে আসে তা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা যেটুকু করি, এ ধরনের খবর পেয়ে তাকে কে বিদেশে পাঠিয়েছে তাকে ধরি যাতে ভিকটিমকে ফেরত নিয়ে আসা যায়। আমরা সেই ব্যবস্থাই করে থাকি। নারী যারা বিদেশে যায় তাদের আমরা বার বার সাবধান করে বলছি যে, বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যেনো বৈধভাবে যায়। আর এক কাজের কথা বলে অন্য কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে তারা যেনো সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিদেশ যেতে আগ্রহীরা যদি সচেতন হন, তাহলে পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। সম্পাদনা : মাহবুব আলম ও সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ