Skip to main content

৩০ লাখ টাকার দুনীতি প্রতিরোধে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেল দুদক

সারাবাংলা: ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ৩০ লাখ টাকার দুর্নীতি প্রতিরোধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানের ফলে একই সঙ্গে দ্রুত সময়ে ভূমির মালিকেরা ৩ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের জন্য তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণের সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে ব্যাপক ঘুষ-লেনদেন হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দুদক জানায়, কমিশনের হটলাইনে অভিযোগ পেয়ে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। দুদকের টিম দেখতে পায়, ক্ষতিপূরণের চেকের অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দালালচক্র গড়ে উঠেছে। যারা ক্ষতিপূরণের দাবির উপর ১০ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করছে। দালালরা প্রথমে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে ঘুষের অঙ্ক বাবদ একটি একাউন্ট পে চেক গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নগদ ঘুষ দালালদের কাছে হস্তান্তর করা মাত্র অধিগ্রহণের মূল পাওনা বাবদ চেক ভূমি মালিকের নিকট তুলে দেয়া হয়। ঘটনার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে একটি টিম গঠন করা হয়। ওই টিম গত ১১ অক্টোবর পুরন ঢাকার ইসলামপুরের যমুনা ব্যাংক শাখায় হানা দেয়। কিন্তু দালালচক্র কৌশলে পালিয়ে যায়। ওই অভিযানের ফলে দালালদের ১৭ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ভূমি মালিক নূরে আলম বিনা ঘুষে ক্ষতিপূরণের এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উঠাতে সক্ষম হন। এছাড়া একই দালালচক্র অপর ভূমি মালিক আলমগীরের নিকট ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ উঠাতে ১০ শতাংশ হারে অর্থ দাবি করে। ওই ভূমির মূল্য ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যাতে কমিশনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ লাখ টাকা। ওই টাকা দালালদের হাতে তুলে দিতে তিনি একটি চেক তৈরি করেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও দালালরা দুদকের তৎপরতা টের পেয়ে তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দুদক মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে দুদকের অপর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী পরিচালক খায়রুল হক। বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) এই টিম ভূমি মালিক মোঃ আলমগীরকে নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাত করে চেক পরিশোধ এবং দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এরপর ভূমি মালিক আলমগীর বিনা ঘুষে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক পেতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমকে ঘিরে দালাল চক্র উচ্ছেদের উপর গুরুত্বারোপ করে দুদক টিম। এ প্রসঙ্গে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী জানান, ‘সরকারি অফিসে সুশাসন নিশ্চিত এবং দুর্নীতি বন্ধ করার পূর্বশর্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনঘন পরিদর্শন এবং সার্ভেইলেন্স নিশ্চিত করা। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন আনতে হলে প্রত্যেক অফিস প্রধানকে তার অফিসের প্রতিটি কার্যক্রম কঠোর মনিটরিং, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সিসিটিভি’র ব্যবহার চালু করা উচিত। দুদক সকল পাবলিক অফিসে কঠোর অনুশাসন নিশ্চিত করতে চায়, এ লক্ষ্যে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’

অন্যান্য সংবাদ