প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিবেশ বিপর্যয়ে ভোলায় বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার এক সময়ে গ্রাম-গঞ্জের মাঠে-ঘাটে, বনে জঙ্গলে, গাছে গাছে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ নানা ধরনের পাখি দেখা গেলেও কালক্রমে এখন আর চিরচেনা সেই পাখি দেখা যায়না, পাখি দেখার কলরবে মুখর গ্রামের মেঠো পথ এখন পাখি শূন্য হতে চলছে।

বনে জঙ্গলে, গাছে-গাছে পাখি দেখার সেই অপরুপ দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। বনাঞ্চলের পরিবেশ দূষণ, নির্বাচারে গাছ কাটা, জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার, পাখির বিচরণ ক্ষেএ ও খাদ্য সংকট আর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে দোয়েলসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখি।

মনপুরার ঢালচর এলাকার ষাটার্ধো বৃদ্ধ জয়নাল মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগেও মানুষের ঘুম ভাঙ্গত পাখির ডাকে। তখন বোঝা যেতে ভোর হয়েছে। পাখির কলরবই বলে দিত এখন সকাল, শুরু হক দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা।

কিন্তু এখন যেন পাখির ডাক হারিয়ে গেছে, এখন গাছ গাছালিতে পাখির ডাক নেই। রুহুল আমিন বলেন, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতির সাথে জড়িত সেসব পাখিগুলোর ডাক ও সুর মানুষকে মুগ্ধ করতো সেই পাখিই ক্রমান্বই হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে দোয়েল পাখির এখন আর দেখাই মেলছে না।

কয়েকজন বয়স্কদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দোয়েল, ময়না, কোকিল, শালিক, চড়ইসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি গ্রামাঞ্চলের বিলে-ঝিলে, ঝোঁপে-ঝাঁড়ে, গাছের ডালে, বাগানে কিংবা বাড়ির আঙ্গিনার ডালে বসে তার সুরের ধ্বনিতে মুগ্ধ করে।
এই পাখির ডাক এখন আর কানে শোনা যায় না। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় বাঁশ গাছে, আমের ডালে, সজিনা গাছে, যে পাখি সব সময় দেখা যেত সেই পাখি এখন আর চোখে পড়ে না।

তবে কম সংখ্যক টিয়া, ঘুঘু, কাক, মাছরাঙ্গা, ইত্যাদি পাখি শহর, গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও জাতীয় পাখি দোয়েল তেমন আর মানুষের চোখে পড়েনা। তাই পাখি প্রিয় অনেক সৌখিন মানুষের বাড়ির খাচায় বন্ধী করে পাখি পালন করতে দেখা যায়।

পাখি পালন সাদমান ইসলাম তাহামিদ বলেন, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে।
নতুন প্রজন্ম ওই পাখি দেখতে পান না, তাছাড়া শিকারীদের দৌরাত্বের কারণে পাখি শূন্য হয়ে পড়েছে বনাঞ্চল। তাই বাধ্য হয়ে বাড়িতে বসেই বেশ কিছু প্রজাতির পাখি পালন করেছি। যাতে করে নতুন প্রজন্ম পাখি সম্পর্কে জানতে পারে।

এ বিষয়ে ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, শীত মৌসুমে পাখি শিকারের কিছু বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটে থাকে। এছাড়া অন্য সময় তেমন শিকার হয়না। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী ও পশুপাখি সামান্য খাদ্যের সংকট থাকলেও উপকূলের বন রক্ষায় বন বিভাগ তৎপর রয়েছে। বন রক্ষা হলে পশু-পাখি, বন্যপ্রাণীও রক্ষা হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মাঝে মধ্যেই পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতা নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে, কৃষি জমিতে মাএাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রনসহ, উপকূলের বন ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখির দেখা মিলবে না বলে মনে করেছেন পরিবেশবাদীরা।