প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্টে পরকীয়ার দায়

যুবায়ের আহমাদ: সংবাদপত্রের পাতা খুলতেই চোখে পড়ে সামাজিক বন্ধন ছিন্ন হওয়ার মহামারি ‘প্লেগ’ পরকীয়ার খবর। ইদানিং ‘পরকীয়ার কারণে মৃত্যু’ বাক্যটি মিডিয়াতে বার বার উচ্চারিত হচ্ছে। পরকীয়ার অদৃশ্য ফাঁদে আটকে আত্মহনন করছে অনেক নারী-পুরুষ। বাড়ছে আত্মহত্মা। নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে হারাতে হচ্ছে মায়ের আদর। পরকীয়ার পথে সন্তান বাঁধা হওয়ায় সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। কখনো নিজ সন্তানকে টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে বস্তাবন্দি করে রাখছে।

কী এর সমাধান? কীভারে বের হয়ে আসা যাবে সর্বনাশা এ অপরাধ প্রবণতা থেকে? যেহেতু এমন ভয়ঙ্কর প্রবণতা মানুষকে স্বামী-স্ত্রী সন্তান এমনকি দেশ ত্যাগের মতো সীমালঙ্ঘনেও উৎসাহ দেয় তাই ইসলাম একে কঠোর হস্তে দমন করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গোটা সমাজের অশান্তির কারণ হওয়ায় বিবাহিত পুরুষ কিংবা নারী যদি ব্যভিচার তথা পরকীয়ায় লিপ্ত হয় তাহলে ইসলাম মৃত্যুদ- ঘোষণা করেছে। যেহেতু এর ক্ষতি ভয়ঙ্কর, মারাত্মক ও তীব্র তাই ইসলাম এর জন্য কঠোর শাস্তি ঘোষণা করেছে।

বর্তমানে পরকীয়ার অধিকাংশ ঘটনার সূত্রপাত হচ্ছে ফোনালাপ কিংবা অনলাইন চ্যাটিং থেকে। অথচ ইসলামের নির্দেশনা মেনে মহিলাদের পুরুষের সঙ্গে, পুরুষদের মহিলাদের সঙ্গে ফোনালাপের ক্ষেত্রে সংযত হলে এ সমস্যাটি মহামারির আকার ধারণ করত না। মহিলাদের কথার আওয়াজকেও সতরের অন্তর্ভূক্ত করে অপ্রয়োজনে পরপুরুষের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছে।
একান্ত প্রয়োজনে কথা বলতে হলেও সুরা আহজাবের ৩২ নং আয়াতে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। শুধু মহিলাদেরকেই নয় বরং সুরা নুরের ৩০ নং আয়াতে প্রথমে আল্লাহ তায়ালা পুরুষদেরকে তাদের দৃষ্টি সংযত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। আবার ৩১ নং আয়াতে মহিলাদের তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখার পাশাপাশি তাদের গোপন শোভা অনাবৃত করতে নিষেধ করেছে। অপাত্রে সৌন্দর্য প্রদর্শনকে হারাম করে সবটুকু সৌন্দর্য স্বামীর জন্য নিবেদনে উৎসাহ প্রদান করেছে। কারণ স্বামী তার স্ত্রীর সৌন্দর্যে মোহিত হলে সংসারের শান্তিই বাড়বে। পক্ষান্তরে স্ত্রীর সৌন্দর্য দিয়ে অন্যকে মোহিত করার পথকে অবারিত করে দিলে তা কেবল বিপদই ডেকে আনবে।

পুরুষ-মহিলা সবাইকে চরিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। সুরা বনি ইসলাঈলের ৩২ নং আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না’। কাছেও যেও না মানে কী? যে জিনিস মানুষকে ব্যভিচারের নিকটবর্তী করে দেয় তার কাছে যেতেই নিষেধ করেছে। যেসব কাজ করলে মানুষ ব্যভিচারে ধাবিত হয় সেসব কাজ করতেও নিষেধ করা হয়েছে। পরকিয়ার সূত্রপাত যদি ফোনালপে হয় তাহলে সুরা বনি ইসরাইলে ৩২ নং আয়াত এই ফোনালাপকেও হারাম করেছে।
যে ব্যক্তি দুনিয়ার সামান্য অবৈধ ‘ভালোলাগা’কে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের চরিত্রকে পরকীয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ থেকে হেফাজত করবে নবীজি (সা.) তার জন্য জান্নাতে জামিনদার হওয়ার ঘোষণা করেছেন। হজরত সাহল ইবনে সা‘দ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের জামিনদার হবে আমি তার বেহেশতের জামিনদার হবো। (বুখারি ও মুসলিম)।

কখনো দেখা যায় দেবরের সাথে জমে ওঠে পরকীয়া। ইসলাম দেবরের সাথে দেখা-সাক্ষাত করার লাগামকেও টেনে ধরেছে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সাবধান! তোমরা নির্জনে নারীদের কাছেও যেও না’ এক আনসার সাহাবী বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! দেবর সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কী? নবীজী (সা.) বললেন, দেবর তো মৃত্যু সমতুল্য। (বোখারি, মুসলিম)। হাদিসের ব্যখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ফতহুল বারিতে লিখেছেন, এখানে মৃত্যুর সমতুল্য এর অর্থ হলো হারাম।

পরকীয়ার মহামারী থেকে সমাজকে রক্ষা করতে ইসলামের দিকেই ফিরে যেতে হবে আমাদেরকে। শান্তির জন্যই আল্লাহর ভয় অন্তরে এনে নিজের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে হাজার মাইল দূরে রাখতে হবে। পার্ক, ফাইভস্টার হোটেল, নাইট ক্লাব কিম্বা বিনোদন কেন্দ্রগুলোর লাগাম টেনে ধরতে হবে। সর্বত্র শালীন পোষাক পরিধানে বাধ্য করতে হবে। সামাজিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে বিদেশী চ্যানেল ও বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ‘আধুনিকতা’র নামে এখনের এ ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন করলে হয়তো আরো কঠিন মূল্য দিতে হবে এ সমাজকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ