প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতিরোধে আত্মশুদ্ধির অনুশীলন

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। সংগ্রামী পরিশ্রমী জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জল। ভাষার জন্য আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার জন্য সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার গর্বিত ইতিহাস বিশ্বের কয়টি দেশেরই আছে। কিন্তু অপার সম্ভাবনার এই সোনার দেশটিকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিছু সংখ্যক লোভী এবং ধান্ধাবাজ মানুষের লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা। অর্পিত দায়িত্বকে প্রাপ্ত সুযোগ মনে করে মেতে উঠেছে লুটপাটের মহোৎসবে।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত লোকদের দুর্নীতি রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। আর পরিবারের কর্ণধারের দুর্নীতি পরিবারকে বিপদে ফেলে। এক কথায় দুর্নীতি হলো অর্পিত দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এর মাধ্যমে স্বার্থ চরিতার্থ করা। রাষ্ট্র এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে নিজে লাভবান হওয়া।

নিজে লাভবান হওয়ার মানসিকতা স্বীকৃত হলেও অপরকে ক্ষতিগ্রস্থ করার মনোবৃত্তি ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহারকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। রাষ্ট্র থেকে শুরু করে একজন ব্যক্তিকেও তার দায়িত্ব ও কর্মক্ষেত্রের ব্যাপারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমরা অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ দুর্নীতি দমন দেশে আইনের কোনো ঘাটতি নেই। অভাব শুধু সেই আইনের যথার্থ প্রয়োগ এবং ফাঁক- ফোকর বন্ধ করা। দায়িত্ব পালনের জন্য সঠিক ব্যক্তির মনোনয়ন এবং প্রার্থীতার ক্ষেত্রে অর্থ, দল, ক্যাডার ও আত্মীয়তাকে উপেক্ষা করে মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিকে প্রাধান্য দেয়া এবং এর অনুশীলন দুর্নীতি লাঘবে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত যে কোনো দায়িত্বই প্রকৃত অর্থে একটি আমানত। এই আমানতের খেয়ানত করাই হল দুর্নীতি।

এই দায়িত্ব পালনের বিপরীতে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় করা তথা সেচ্ছাচারিতা গোটা ব্যবস্থাকে উলট-পালট করে দেয়। আমানতের ব্যাপারে কোরআন হাদীস শরীফে অনেক কঠিন ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানত সমূহ প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও।’ হাদীস শরীফে আমানতের খেয়ানতকে মুনাফেকের আলামত বলা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ বা ক্ষমতার দাপটে কোন দিন দুর্নীতি দমন করা যাবে না।

এর জন্য প্রয়োজন মানুষের মনে পরিশুদ্ধি এবং খোদাভীতি অর্জন। আল্লাহর ভয় অন্তরে না থাকলে দুর্নীতি রোধ করা যাবে না। সৎ ও যোগ্য মানুষ তৈরি করতে হবে। যাদের অন্তরে পার্থিব মোহ থেকে মুক্ত হয়ে আখিরাত লাভের প্রত্যাশায় আপ্লুত থাকবে। নবী করিম (দ.) নবুয়ত লাভের পর ১৩ বছর শুধু মানুষ তৈরি করেছিলেন। তারপর যখন তাদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসিয়ে দিয়েছিলেন তখন আর বিশৃঙ্গলা বা অনিয়ম হয়নি। তারা অর্ধজাহান শাসন করেছেন কিন্তু ইসলামের শত্রুরাও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করার সুযোগ পায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ