Skip to main content

সরকারকে বিব্রত করতেই ‘গায়েবি মামলা’!

প্রভাষ আমিন : নানা কৌশলে বিরোধী দল ও মতকে দমন করে সরকার। সবচেয়ে সহজ ও পুরোনো কৌশল হলো মামলা। সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়। নির্বাচনের আগে এ কৌশলের ব্যবহার বেড়ে যায়। তবে এটাকে কৌশল না বলে অপকৌশল, ব্যবহার না বলে অপব্যবহার বলাই ভালো। এবারও নির্বাচনকে সামনে রেখে মামলার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং ২০১৫ সালে এ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে বিএনপি দেশজুড়ে ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়েছে। পেট্রল সন্ত্রাসের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি এখনো আতঙ্কিত করে। সেই সময় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ অনেকের বিরুদ্ধেই সহিংসতার মামলা হয়েছিলো। সে মামলার বেশিরভাগই ছিলো সত্যি। শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো সহিংসতার নির্দেশ দেওয়ার। কিন্তু ২০১৫ সালের পর বিএনপি খুব সচেতনভাবে নিজেদের সংযত রেখেছে। গত চারবছরে বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো সহিংসতা অভিযোগ নেই। কিন্তু মামলা কিন্তু থেমে নেই। বিশেষ করে গত দুই মাসে চার হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামে- বেনামে বিরোধী দলের প্রায় ৪ লাখ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পত্রিকায় দেখলাম, অল্প সাজা পাওয়া, ছোট-খাটো অপরাধীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দিয়ে কারাগার খালি করা হচ্ছে। তার মানে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের আরও অনেককেই গ্রেপ্তার করা হতে পারে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না, তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না; এমনটা দাবি করছি না। রাজনীতি করলেই কেউ আইনের উর্ধ্বে উঠে যান না। কিন্তু মামলা করলে সেটা সত্য হতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মামলার জোয়ার বইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যটা খুব পরিষ্কার। কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত বিরোধীদলের সক্রিয় কর্মী, সম্ভাব্য নির্বাচনি এজেন্টদের তালিকা করে তাদের নামে মামলা করা হচ্ছে। যাতে নির্বাচনের সময় বিরোধী দলের মাঠের মূল কর্মীবাহিনী হয় কারাগারে থাকবে, নয় গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াবে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু এবারের মামলা শুধু মিথ্যা নয়, ডাহা মিথ্যা। পত্রিকায় লেখা হচ্ছে- গায়েবি মামলা। কারণ যেসব মামলা হচ্ছে, তার অধিকাংশ ঘটনা ঘটেইনি। গাড়ি ভাঙচুর হয়নি, কিন্তু মামলা হয়েছে; ককটেল বিস্ফোরণ হয়নি, কিন্তু মামলা হয়েছে। এমন উদাহরণ অসংখ্য। এবার আরও মজার ঘটনা ঘটেছে। দুইবছর আগে মারা গেছেন, দেশের বাইরে থাকেন, ঘটনার সময় হজে ছিলেন বা ঘটনার সময় কারাগারে ছিলেন; এমন অনেককেও এসব মামলার আসামির। পত্রিকায় পড়েছি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার ধারণা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্তাদের কেউ কেউ সরকারকে বিব্রত করতে ইচ্ছে করেই এসব গায়েবি মামলা দিচ্ছেন। সুযোগ পেলেই মামলায় এক-দুজন অস্বাভাবিক আসামীর নাম ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, যাতে পুরো বিষয়টি হাস্যকর করে তোলা যায়। দুয়েকটা ক্ষেত্রে হলে ভুল হলে এড়িয়ে যাওয়া যেতো। কিন্তু অনেকগুলো মামলার ক্ষেত্রেই ঘটনা ঘটেনি বা আসামিরা আসামি হওয়ার মতো নয়। তাই মামলার ব্যাপারে আরও সতর্কতা দরকার। যদি কেউ অপরাধ করেন, তিনি যে দলেরই হোন, তাকে আসামি করা হোক, প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হোক। কিন্তু নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

অন্যান্য সংবাদ