প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রেপ্তার-মামলার মধ্যেও প্রস্তুত বিএনপি

কালের কন্ঠ : কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের পর আগামীকাল শনিবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজকরা এখনো জনসভার অনুমতি না পেলেও ঐক্যফ্রন্টে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের এই জনসভা নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। তবে গত কদিনে চট্টগ্রামে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কজন নেতার পাশাপাশি কর্মীও গ্রেপ্তার হয়েছে। একের পর মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেই জনসভার প্রস্তুতি চলছে বলে বিএনপি নেতারা জানান। অনেকের মতে, ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে ঘিরেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরপাকড় বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জানান, মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেপ্তার-হয়রানির কারণে বেশ কজন জ্যেষ্ঠ নেতা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁদের কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনের চেষ্টাও করছেন।

তবে এসব নেতার অভিযোগ, চট্টগ্রাম বিএনপির দুর্গ। বিএনপি যখন সরকার গঠন করে তখন চট্টগ্রাম থেকে ডজনখানেক নেতা মন্ত্রিপরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও অনেকেই এখন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তবে ওই নেতাদের বেশির ভাগই এখন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেই। শনিবার ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে কজন কেন্দ্রীয় নেতা চট্টগ্রামে এলেও চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ওই নেতাদের গত কদিন ধরে রাজনীতির মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, নেতারা কম-বেশি মাঠে আছেন। শনিবার লালদীঘি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা উপলক্ষে কালকে (আজ শুক্রবার) আমাদের দলীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা আছে। এতে নেতারা সবাই উপস্থিত থাকবেন।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলে চলতি মাসে (গতকাল পর্যন্ত) বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৫০ জন করে আসামি করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর আমাদের সভাপতি (নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন) সিএমপিতে ২৭ অক্টোবর লালদীঘির জনসভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও এখনো অনুমতি পাইনি। আশা করি কাল (আজ) সকালে অনুমতি পেয়ে যাব। প্রশাসন থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

জেএসডি (রব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি গোলাম জিলানী চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল ১১টার দিকে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আমরা ২৭ অক্টোবরের জনসভার অনুমতির জন্য দেখা করতে গেছি। উনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আগামীকাল (আজ) অনুমতি পাব। সিলেটেও প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে। আশা করি চট্টগ্রামেও অনুমতি দেবে প্রশাসন।’

ঐক্যফ্রন্টের জনসভার আগের দিন আজ শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কজন নেতা চট্টগ্রামে আসছেন। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গোলাম আকবর খোন্দকার, বরকতউল্লা বুলু প্রমুখ আসার কথা রয়েছে। বিকেলে নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ে এই প্রস্তুতিসভা হবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের জনসভাকে সামনে রেখে আজ ও আগামীকাল দুপুরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বদানকারী গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ