প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে ঢাকা-দিল্লির একাধিক চুক্তি সই

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যাত্রী ও পর্যটকবাহী ক্রুজ চলাচলের সুযোগ এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন নৌবন্দর ‘পোর্ট অব কল’ ঘোষণা সংক্রান্তসহ বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করেছে ঢাকা ও নয়া দিল্লি।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারতের নৌ সচিব পর্যায়ের দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ ও ভারতের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব গোপাল কৃষ্ণ।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ও দিল্লির প্রতিনিধিরা জানান, দু’দেশের মধ্যে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এই চুক্তিগুলি ‘মাইলস্টোন’ হিসাবে চিহিত হবে। উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহনের বিস্তার ঘটাতেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তারা।

নদী ও সমুদ্র যোগাযোগ বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রটোকল অনুযায়ী গঠিত দু’দেশের ১৯তম স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম দিনের বৈঠকে বুধবার যে বিষয়গুলি নিয়ে ঢাকা-দিল্লি একমত হয়েছিলো, বৃহস্পতিবার সেই বিষয়গুলি সম্পর্কিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সচিবরা। ভারতের ধুবড়ি এবং বাংলাদেশের পানগাঁও-কে নতুন বন্দর হিসাবে ব্যবহার করার চুক্তি হয়েছে।

এছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে, যেগুলি আগামীদিনে কার্যকর করা হবে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রূপনারায়ণ নদীকে যুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সিদ্ধান্ত হয়েছে গেঁওখালী ও কোলাঘাটের মধ্যে রূপনারায়ণ নদীকে প্রটোকল রুটের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাট এবং বাংলাদেশের চিলমারীকে নদী বন্দর হিসাবে উন্নত করা হবে। এই নদীপথে পণ্য পরিবহন চালু হলে, ভারত থেকে সিমেন্ট ও নির্মাণ সামগ্রী বাংলাদেশে কম খরচে আনা যাবে। এব্যাপারে খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করে শীঘ্রই তা চালু করা হবে।
ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আসামে বরাক নদীতে করিমগঞ্জের পাশাপাশি বদরপুরে এবং একইভাবে বাংলাদেশের আশুগঞ্জের পাশে ঘোড়াশালে বন্দর তৈরী করা হবে।

ভারতের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে আসামের শিলচর পর্যন্ত নৌপথ রুট প্রটোকলের আওতায় নিয়ে আসার জন্য। দু’দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়, রাজস্ব বোর্ড, ডিজি (শিপিং ) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন কতৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ভারতের পক্ষে ছিলেন জাহাজ,বিদেশ,স্বরাষ্ট্র,উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রনালয় এবং অভ্যন্তরীণ জলপথ অথরিটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান ও বাংলাদেশের রাজশাহীর মধ্যে একটি পুরানো নদীপথ ছিলো। সেই নদীপথকে আবার ব্যবহারযোগ্য করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীপথগুলি সচল রাখার জন্য নিয়মিত ড্রেজিংয়ের বিষয়ে বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আশুগঞ্জ-জাকিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ-দৈখোয়ার মধ্যে ড্রেজিং’র তদারকির জন্য একটি যৌথ মনিটরিং কমিটি তৈরী করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে ওই দুটি সেক্টরে।

এছাড়া ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে থাকা গোমতী ও হাড়োয়া নদীকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা খতিয়ে দেখার জন্যও একটি যৌথ টেকনিক্যাল কমিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত