প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগ চায়, ‘তারা একটু মিছিল মিটিং করুক’

বাংলা ট্রিবিউন : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভা-সমাবেশকে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অংশ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির নীতি-নির্ধারণীয় পর্যায়ের নেতারা নবগঠিত নির্বাচনি জোটটির এসব রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা বলছেন, সভা-সমাবেশ প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার। সবাইকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামী লীগ উদার-গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দলটি চায়, এদেশে সবাই যার যার গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করুক। সবাই নির্বাচনে অংশ নিক। তাই প্রতিবন্ধকতা নয় বরং ঐক্যফ্রন্টের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা একটু মিছিল-মিটিং করুক। তবে, এসব সমাবেশ ঘিরে কোনও নাশকতা-উসকানিমূলক ঘটনা ঘটলে সরকার কোনও ছাড়া দেবে না।

যদিও কেউ কেউ বলতে চান, সরকার ঐক্যফ্রন্টকে আন্দোলন করতে দিতে চায় না। যা প্রথম দফায় সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে প্রমাণ করেছে সরকার। আর সে জন্য সিলেটের সমাবেশের অনুমতির জন্য আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে ঐক্যফ্রন্টকে। কিন্তু সরকার ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলে কথা বলে জানা গেছে, দলটি ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচিতে দৃশ্যমান কোনও বাধা সৃষ্টি করতে চায় না। সরকার মনে করছে, প্রথম সমাবেশই সফল করতে পারেনি জোটটি, এই জোট জনমনে সাড়া ফেলতে পারেনি। এটাই তার প্রমাণ। এছাড়া নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েকদিন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আন্দোলন করা সম্ভব নয়, বড় জোর নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারের কাজ করা সম্ভব।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দাগি, পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত কোনও আসামি যেন অংশ নিতে না পারে বা কোনও দুর্ঘটনা না ঘটাতে পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখা হবে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। পুরনো মামলা সচল করা হতে পারে। শাসক দলের নেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচিতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাই আসছেন। ব্যবস্থাপনাও তাদের হাতে। ড. কামাল ও অন্যরা এতে অতিথি মাত্র। গত ১০ বছরে বারবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও বিএনপি-জামায়াত আন্দোলন করতে পারেনি, এমনকি মাঠেও ভালোভাবে নামতে পারেনি। এখন ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচিতে তারা যোগ দিতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সভা-সমাবেশ যে কেউ করতেই পারে। ঐক্যফ্রন্ট শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে, এটা খুব ভালো কথা। আওয়ামী লীগ চায়, তারা একটু মিছিল মিটিং করুক। কারণ তাদেরও নির্বাচন করতে হবে। কেউ সভা-সমাবেশ করতে না পারলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে না। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টে কর্মসূচির পেছনে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত। যারা ষড়যন্ত্রে সিদ্ধহস্ত। তাই ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচিতে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে। যদি নাশকতা-উসকানিমূলক কিছু ঘটে, সরকার কোনও ছাড় দেবে না।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৪ অক্টোবর) সিলেটে হজরত শাহজালালের (রা.) মাজার জিয়ারত করে একটি সমাবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পর্যায়ক্রমে তা চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও চলবে। যদিও প্রথমে অনুমতি না পাওয়ায় ২৩ অক্টোবরের পরিবর্তে একদিন পিছিয়ে সমাবেশ করে জোটটি। অনুমতির জন্য আদালতে রিটও করতে হয় তাদের।

এদিকে, সিলেটের সমাবেশের পর ৩০ জন নেতাকর্মীকে আটকের অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ঐক্যফ্রন্টের সভা-সমাবেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তিনি  বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের রাজনৈতিক তৎপরতাকে স্বাগত জানাই। সভা-সমাবেশ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। যদি জনগণের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, তারা কর্মসূচি পালন করতেই পারে। তবে, তাদের কর্মসূচিকে ঘিরে কোনও আশঙ্কা থাকলে, সেটা দেখাও সরকারের দায়িত্ব। কারণ, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের কর্তব্য, জনসেবার অংশ।’

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া (গণফোরাম ও জেএসডি), জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন এর শীর্ষ নেতৃত্বে আছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ