প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জনবল সংকটে হিমশিম খাচ্ছে ভোক্তা অধিদপ্তর

মোহাম্মদ রুবেল : জনবল সংকটে দেশের ১৬ কোটি ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে ভেজাল বিরোধি অভিযান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আবার বিচারকের অভাবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিচারকার্য পরিচালানা করতেও সমস্যা হচ্ছে। তবুও এ সংকটকে মোকাবেলা করেই সারাদেশে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে এবং বিগত ৯ বছরের ভোক্তাদের দায়ের করা বিভিন্ন মামলাসমূহ নিষ্পত্তি করে বছরে প্রায় ৩৭ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩শ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শফিকুল ইসলাম লস্কর আমাদের অর্থনীতিকে জানান, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। এরফলে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ভেজাল বিরোধি অভিযান চালাতে সমস্যা হচ্ছে। তাই প্রতিটি জেলায় কর্মকর্তা ও কর্মচারী দরকার। আমরা বিসিএস নন ক্যাডার থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ চেয়েছি, সরকারও আন্তরিক রয়েছেন। ৬৪ জেলায় বিচারকেরও সংকট রয়েছে। তাই অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদেও ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হচ্ছে। ঢাকায় অধিদফতরে ১৪ জন বিচারক রয়েছেন। সারাদেশে মাত্র ৪৫ জন বিচারক রয়েছেন। এসব বিচারকরা তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করেন। আগামীতে ভোক্তার অধকিার সংরক্ষণে প্রতিটি জেলায় বিচারক থাকবে আশা করি। ভেজাল বিরোধী অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, প্রতিটি জেলায় বিচার নিয়োগ ও জনবল দেওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ বাস্তবায়নে তিনটি বিষয় সামনে রেখে আমরা কাজ করি। প্রথমত প্রতিকারমূলক, দ্বিতীয়ত প্রতিরোধমূলক ও তৃতীয়ত উন্নয়নমূলক। প্রতিকারমূলকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যেমন, বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা ও গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন আদেশ দেওয়া। প্রতিরোধমূলক কাজ হলো, যখন অধিদপ্তর মনে করবে কোনো প্রতিষ্ঠান ভেজাল দ্রব্য তৈরি করে তা বাজারজাত করার চেষ্টা করছে, সেটির বিরুদ্ধে তাতক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া। ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সারাদেশে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে এবং ভোক্তাদের দায়ের করা বিভিন্ন মামালা নিষ্পত্তি করে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৫৯৫ প্রতিষ্ঠানকে ১৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অভিযোগ আসে ছয় হাজার ১৪০টি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৬২টি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আসে ২৬৪টি।

বাজার তদারকির জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯-১০ অর্থবছরে অভিযান পরিচালনা করেছে সাতটি। ওই বছর ৫৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৭৪টি অভিযানের মাধ্যমে এক হাজার ৫১২টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৭১টি অভিযানে দুই হাজার ৬৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দুই হাজার ৯২৪টি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭২১টি অভিযানের মাধ্যমে দুই হাজার ৮৬১টি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮৪১টি অভিযানের মাধ্যমে তিন হাজার ১৩১টি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক হাজার ৩৯৪টি অভিযানের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৫৯টি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তিন হাজার ৪৩৭টি অভিযানে ১০ হাজার ৭২৯টি এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার হাজার ৫৮টি অভিযানের মাধ্যমে ১৩ হাজার ৬০২টি প্রতিষ্ঠানকে নানা অঙ্কের জরিমানা করা হয়।

সম্পাদনায়: শাহীন চৌধুরী, হুমায়ুন কবির খোকন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ