প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাইগার স্কোয়াড
প্রতিবাদীদের দমনে সৌদি যুবরাজের বিশেষ গুপ্তঘাতক দল

নূর মাজিদ : ভিন্নমতাবলম্বি সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যাকা- নিয়ে এখন প্রতিবাদমুখর বিশ্ব গণমাধ্যম। তবে গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে যে সকল আততায়ীর হাতে খাসোগজি নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন তারা এর আগেও অনেক হত্যাকা- পরিচালনা করেছে। এরা সকলেই টাইগার স্কোয়াড নামক একটি বিশেষ গুপ্তঘাতক বাহিনীর সদস্য। যাদের লক্ষ্য সৌদি আরবের ভেতরে বাহিরে ভিন্নমতাবলম্বি প্রতিবাদি এবং ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এমন ব্যক্তিদের হত্যা করা। গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই তাদের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই গুপ্তঘাতক বাহিনীর প্রতিষ্ঠা এবং এর হাতে পরিচালিত উল্লেখযোগ্য হত্যাকা-ের ইতিহাস তুলে ধরেছে। সৌদি আরবের গোয়েন্দা বাহিনী ও তাদের অপারেশন পরিচালনার ধরন নিয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন এমন সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে মিডল ইস্ট আই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইগার স্কোয়াড নামে পরিচিত এই গুপ্তঘাতক বাহিনী পরিচালনা করেন স্বয়ং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এই বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি তার কাছেই তাদের অভিযানের প্রতিবেদন জমা দেন। মূলত সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী এবং ইন্টেলিজেন্সের চৌকস ৫০ জন সদস্যের সমন্বয়ে মাত্র ১ বছরের কিছু আগে টাইগার স্কোয়াড প্রতিষ্ঠা করা হয়। মূলত ক্রাউন প্রিন্স পদে মনোনয়ন পাওয়ার পরেই এই গুপ্তঘাতক দল গঠন করেন বিন সালমান। এই বাহিনীর সদস্য হওয়ার প্রধান শর্ত হলো ক্রাউন প্রিন্সের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য। স্থানীয়ভাবে টাইগার স্কোয়াডের নাম ফিরাক এল নিমর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা এই বিশেষ বাহিনীর অস্তিত্ব স¤পর্কে আগে থেকেই জানেন। এমনকি এই গুপ্তঘাতক দলের কার্যক্রম নিয়েও তাদের পূর্ব ধারনা রয়েছে। প্রতিবাদি ও অধিকার কর্মীদের গ্রেফতারের পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার শিকার যেন না হতে হয় সেই সমস্যা সমাধানেই ভিন্নমতালম্বিদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়াই টাইগার স্কোয়াডের কাজ।

এই স্কোয়াড তাদের প্রথম হাই প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে সৌদি আরবের মাটিতেই। গত বছরের নভেম্বর মাসে যখন সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তথাকথিত দুর্নীতি দমন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল, তখন বিন সালমানের তীব্র বিরোধী সৌদি যুবরাজ মানসুর বিন মুকরিনকে হত্যা করে টাইগার স্কোয়াড। যুবরাজ মুকরিন তখন আসির প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর পদে নিযুক্ত ছিলেন। নিজ সরকারের দমনাভিযান থেকে বাঁচতে এই সময় তিনি হেলিকপ্টারে করে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করেন। কিন্তু, তার হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের পরেই বিধ্বস্ত হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ একে যান্ত্রিক ত্রুটি বলেই উল্লেখ করে তবে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, একটি সামরিক হেলিকপ্টারের ছোঁড়া মিসাইলের আঘাতেই প্রিন্স মুকরিনের হেলিকপ্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। সূত্রটি আরও জানায়, খাসোগজি হত্যাকা-ের অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন মেশাল সাদ আল-বোস্তানি ওই সামরিক হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিলেন। বোস্তানি সৌদি রাজকীয় বিমান বাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজেদের শিকারের মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বা দুর্ঘটনার মতো করে সাজায় এই গুপ্তঘাতক দল। এই বিষয়ে তারা পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত বিশেষ প্রশিক্ষণও নিয়ে থাকে। জামাল খাসোগজি হত্যার ঘটনা ছিলো এর ব্যতিক্রম। কখনো গাড়ি দুর্ঘটনা সাজিয়ে, কখনোবা বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে জীবন কেড়ে নিতে সিদ্ধহস্ত টাইগার স্কোয়াড। এমনকি ইতোপূর্বে, তারা একজন প্রবাসি সৌদি নাগরিকের শরীরে ভয়ংকর দুরারোগ্য রোগের জীবাণুও ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে দেয়। ওই ব্যক্তি পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে তার দেহে ওই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। মিডল ইস্ট আই

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত