প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্রাম নয়, মাশরাফির ভাবনায় শুধুই খেলা

প্রথমআলো : চট্টগ্রামের হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু’র এই দুপুরটা বেশ শান্ত, ঠান্ডা। কোলাহলমুক্ত আর নিরিবিলি। কার্তিকের এমন নির্জন দুপুরে মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও আশ্চর্য শান্ত দেখায়। শরীরটা তাঁর ভালো যাচ্ছে না। এশিয়া কাপ থেকে ফিরেছেন দুটি চোট নিয়ে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে যোগ হয়েছে আরেকটি। লিফট থেকে নেমে কিছুটা টেনে টেনে হেঁটে হোটেল লবিতে সাংবাদিকদের জটলার মধ্যে এসে বসেন মাশরাফি।

আজ ঐচ্ছিক অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। মাঠে গেছেন গত দুই ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে কাটানো আরিফুল হক, আবু হায়দার, রুবেল হোসেন, নাজমুল হোসেন এবং কাল হঠাৎ দলে যোগ দেওয়া সৌম্য সরকার। বাকিরা নিজেদের মতো করেই সময় কাটিয়েছেন হোটেলে। দুপুরে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে সংবাদমাধ্যমের সামনে এলেন মাশরাফি।

দ্বিতীয় ওয়ানডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে সিরিজের শেষ ম্যাচ বিশ্রাম নিতে পারেন মাশরাফি। অবশ্য এমন গুঞ্জন সিরিজের আগ থেকেই শোনা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোর খারাপ দিকগুলোর একটি, কোনটি খবর আর কোনটি গুঞ্জন সেটির পার্থক্য ধরা বেশ কঠিন। অন্তত সাধারণ মানুষদের জন্য তো বটেই।

যেখান থেকেই কথাটা উঠুক, মাশরাফি আজ সাফ জানিয়ে দিলেন, সেটা শুধুই গুঞ্জন, ‘খবর’ নয়। মাশরাফি বিশ্রাম নেওয়ার পক্ষে নন। তিনি বরং খেলতে চান প্রতিটি ওয়ানডেতে। যদিও চোটাঘাত আছে শরীরে। তবুও মাশরাফি থামতে চান না।

কেন চান না, সেটি দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে বলেছিলেন। আবারও বললেন, ‘দেখুন আমি তো একটি সংস্করণে খেলি। যেভাবেই হোক সবসময়ই খেলতে চাই। অন্যদের মতো নই; যারা টেস্ট খেলে, কিংবা টি টোয়েন্টি খেলে। অথবা ঘরোয়া ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচ খেলে। আমি একটা সংস্করণেই খেলি। এখানেও যদি বিশ্রাম নিই তাহলে বেশ কঠিন হয়ে যায় নিজেকে তৈরি রাখতে। তবে চোটে পড়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে, হচ্ছে না যে এমন নয়। এই সিরিজের পর চার-পাঁচ সপ্তাহ সময় আছে। হয়তো একটু ভালো চিকিৎসা দরকার আমার। এরপরও কোচ, নির্বাচক সবার সঙ্গে আলোচনা করে দেখা যাবে।’

সিরিজ জেতা হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষা ধবলধোলাইয়ের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতেও যেমন বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। আবার ধবলধোলাই করলে অনেক আলোড়ন হবে, সেটিও ভাবছেন না মাশরাফিরা। তবে এই জিম্বাবুয়েকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখতে চান না বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘ওরা যে অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে এসেছে এবার, আমাদের সাকিব-তামিম ছাড়া অবশ্যই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। আমাদেরও তো দুইজন সেরা খেলোয়াড় নেই। হয়তো এশিয়া কাপে দারুণ খেলা ও টুর্নামেন্টের পর খুব দ্রুতই মাঠে নামার কারণে রেশটা থেকে গিয়েছে। সবাই নামছে এবং খেলছে স্বাভাবিকভাবে। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাসও এখন অনেক বেশি। এটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আত্মবিশ্বাসটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কে খেলছে, কে খেলছে না সেটির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। এটাই হয়তো জিম্বাবুয়ের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছে।’

পার্থক্যটা আসলেই এখানে হয়েছে। যে জয়ের ধারায় বাংলাদেশ আছে, যে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস নিয়ে দলটা এগোচ্ছে, মাশরাফি কিছুতেই ছন্দপতন হতে দিতে চান না। অভিযান শেষ করতে চান জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করে। কাল সিরিজের শেষ ওয়ানডেটি শুধুই আনুষ্ঠানিক রক্ষার ম্যাচ হলেও মাশরাফির জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণও।

এটাই হতে পারে চট্টগ্রামের মাঠে মাশরাফির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ বিশ্বকাপের পরপরই অবসর নেন। বর্তমান এফটিপি অনুযায়ী বিশ্বকাপের আগে চট্টগ্রামে যে বাংলাদেশের আর কোনো ওয়ানডে নেই ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ