প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুবির নয়া প্রকল্প: প্রভাবশালী মহলের জায়গা কিনে রাখার অভিযোগ

আবু বকর রায়হান, কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নামে সদ্য পাশ হওয়া প্রকল্পটি নিয়ে নানা রকম অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরা মনে করেন প্রকল্প পাশ হওয়ার আগে থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল জায়গা নির্দিষ্ট করে কিনে রেখেছে। যার ফলে ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করার নামে বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে রাজারখলা গ্রামে স্থানান্তর করা হবে। তাদের দাবি বিষয়টা স্পষ্ট করে প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা আড়াল করছে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১১ তম সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার অনেকটাই ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রজেক্টের আওতাধীন ভূমি অধিগ্রহণে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ৭, ৯, ১২ এবং ১৩ নং মৌজার অন্তর্ভুক্ত জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে ১২ ও ১৩ নং মৌজা হচ্ছে রাজারখোলা গ্রামের মৌজা। কিন্তু কোন জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে তা পরিষ্কার করে বলছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। এ বিষয়টাকে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরীও। গত বুধবার (২৪ অক্টোবর) প্রেস ব্রিফিংয়ে ভূমি কোথায় নেয়া হবে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কোথায় হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। আর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও আগে থেকেই সেখানে জায়গা কিনে রেখেছেন। যেন ভূমি অধিগ্রহণের সময় চড়া মূল্যে জায়গা বিক্রি করতে পারেন।’ তারা বলেন,’বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এক বড় রকমের চক্রান্ত চলছে, যার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়েছে।’

ক্যাম্পাসের আশে পাশে জমি থাকার পরেও কেন রাজাখলা জমি নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু তাহের বলেন,”আমরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ৭০ একর ভূমি অধিগ্রহণ চেয়ে প্রকল্প রেডি করেছিলাম কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রী তা আরও বাড়িয়ে প্রকল্প রেডি করতে বলেন যেখানে ২০০.২২ একর জমির কথা উল্লেখ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে অধিগ্রহণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজারখলার ৭, ৯, ১২ ও ১৩ নং মৌজার ২০০.২২ একর জমি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কোন হাত ছিল না।” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে জমি কিনে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার আরও বলেন,’সেখানে কারো জমি কিনে রাখা আছে কি না আমার জানা নেই।’

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নতুন প্রকল্প আসার পর থেকেই ক্যাম্পাস স্থানান্তরের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অখন্ডিত ক্যাম্পাসের জন্য নিজ নিজ টাইমলাইনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপগুলোতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা সবাই অখন্ড কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দাবিতে সরব রয়েছেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ