প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী মৌসুমে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করবে

সুজিৎ নন্দী : রাজধানীতে ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমছে। গত ১০ মাসে ডেঙ্গু রোগে মারা গেছে ১৯ জন। প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ৩০ জন। এ বছর ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬ হাজার। গত ৫ বছরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ২০ হাজারের বেশি। এখন ডেঙ্গুর মৌসুম পুরোপুরি না থাকায় মশা বিরোধী অভিযান চালানো হলে ডেঙ্গুর প্রভাব কমবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার এন্ড কন্টোল রুম সূত্র এ তথ্য জানা যায়।

বর্তমানে নগরীর মশার প্রকোপ প্রসঙ্গে মেডিসিন বিশেষঞ্জ ডা: এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, এখন থেকে যদি মশা নিধনে বিশেষ অভিযান চালানো না হয় তা হলে আগামী মৌসুমে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। নিজ বাড়ি বা ফ্ল্যাটে এডিস মশা নিধণে সহজ পথ বাড়িতে পানি জমতে না দেয়া। ঢাকার জলাবদ্ধতা ডেঙ্গু ছড়ানোর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি অভিজাত এলাকায় ডেঙ্গু মশার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। নির্মাণাধীন ভবন ছাড়াও বাসাবাড়ির ফুলের টব, বালতি ও পুরোনো টায়ারে জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত জায়গা।

রাজধানীর মশা নিধনের দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। মশার উপদ্রব থেকে রাজধানীর বাসিন্দাদের রক্ষায় চলতি বছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাজেট ২২ কোটি টাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এবারই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ সিটি করপোরেশনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, বিশেষ অভিযান, বাউল ও জারিগানের মাধ্যমে অভিযান, প্রশিক্ষণ নিয়ে অভিযান ও রুটিন ওয়ার্ক তেমন কাজে আসছে না। জানা যায়, এ বছর মার্চ মাসের শুরুতে দুই সিটি করপোরেশনের ১৯টি এলাকার ৬৩টি স্থানে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ এলাকাগুলোর সবকটি স্থানে এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, নগরবাসী সচেতন না হলে মশা কমবে না। এখানে করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। নিজের বাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশা নিধন অভিযানে বাড়ির মধ্যে পানি জমতে দেয়া যাবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আমরা ব্যাপক ভাবে কাজ করছি। যে ভাবে কাজ করছি তাতে ডেঙ্গু এখন সহনীয় মাত্রার মধ্যে আছে। নগরবাসীর আতংঙ্কিত হবার কিছু নেই।

ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৬০টি দলের মাধ্যমে মশার উৎপত্তিস্থলে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। মশা নিধনের ক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগীতাও প্রয়োজন।

সম্পাদনা : আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ