প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘অসুস্থ হয়ে একবছর ধরে বোনের বাড়িতে, খোঁজ রাখেনি চলচ্চিত্রের কেউ’

মহিব আল হাসান: চলচ্চিত্রের জন্য অনেক কিছু করেছি। চলচ্চিত্রকে একটা পরিবার ভাবতাম। কিশোরী বয়স থেকে চলচ্চিত্রে কাজ করে গেলাম। তবুও চলচ্চিত্রের কাছের মানুষ হতে পারলাম না। চলচ্চিত্রকে আমি অনেক কিছু দিলাম কিন্তু চলচ্চিত্র আমাকে কিছুই দিল না। গত একবছর থেকে ফুসফুস ও বোন ম্যারুর হাড়ের ক্ষয়ে  অসুস্থ হয়ে বোনের বাড়িতে বিছানায় পড়ে আছি তারপরও চলচ্চিত্রের মানুষগুলো একটি বারের মতো আমার খোঁজ নিল না। এর থেকে আর বড় আক্ষেপের কিছু থাকে না। কথাগুলো বলছিলেন ঢাকাই ছবির মমতাময়ী মা। মায়াময় মুখের সেই গুণী অভিনেত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত রেহেনা জলি।

প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করে অসহায় শিল্পী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক দয়ালু, তিনি তো সব সময় শিল্পীদের পাশে সব সময় দাঁড়ান। আমি উনার কাছে সাহায্য চাই। ‘সরকার যদি আফজাল শরীফ, ড্যানি রাজকে সাহায্য দিতে পারেন তবে আমার মতো একজন গুণী অভিনয় শিল্পীকে সাহায্য দিবেন না? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার চাওয়া আমাকে চিকিৎসার জন্য সাহয্য করেন। আমি আবার সুস্থ হয়ে অভিনয়ে ফিরতে চাই।’

তিনি শাকিব খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যে শাকিব খানের সাথে আমার সবচেয়ে বেশি মা-ছেলের চরিত্র করা হয়েছে সেই শাকিব খানও আমার ব্যাপারে খোঁজ রাখলো না। শাকিব বলত আমি সুপার স্টার নায়ক আর তুমি সুপার স্টার মা। কিন্তু কথাগুলো সবাই মুখে বলেই আসলে দুনিয়াতে কেউ কারো না। যতদিন কাজ করে যাবেন ততদিন সবাই আপনাকে চিনবে তা ছাড়া কেউ আপনাকে চিনবে না অসুস্থ শরীর নিয়ে ভাঙা কন্ঠে এমনটি জানালেন আমাদের সময় ডট কমকে।’

রেহেনা জলির বোন লাইজু তার বোনের অসুস্থা নিয়ে জানান, ‘গত একবছর যাবৎ আমার বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। তার বোন ম্যারুর সপ্তম হাড়টি ভেঙে গুড়ো হওয়ার পাশাপাশি ,লিভার ও পাকস্থলীর সমস্যায় ভুগছেন। এরকারণে তিনি একা নিয়মিত হাটা চলা করতে পারেন না। তার একহাত অকেজো হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছেন নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিতে হবে নইলে এটি ক্যান্সারে আকার ধারণ করবে। গত সাত মাস যাবৎ চিকিৎসা করানো হয়েছে। তিন মাস থেকে চিকিৎসা বন্ধ আছে।

চিকিৎসা কেন বন্ধ করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে লাইজু আক্তার জানান, আসলে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসার জন্য প্রচুর পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে পারছি না।

চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনও আর্থিক ফান্ড রাখেননি কী জানতে চাইলে রেহেনা জলি বলেন, আমার বাবা ছোট বেলায় মারা যায়। আমার ছোট চার বোন এক ভাই। সবাইকে মানুষ করতে আমার নিজের জন্য কিছু করতে পারিনি। এমনকি নিজের একটি বাড়িও করতে পারিনি। থাকি ছোট বোনের বাড়িতে। অঝোর নয়নে কেঁদে কেঁদে আমাদের সময় ডট কমকে এসব কথায় বলেন।

শিল্পী সমিতিতে কোনও আবেদন করছেন কী না জানতে চাইলে লাইজু আক্তার বলেন, ‘ গত একবছর হয়ে গেল আবেদন করি, কিন্তু সমিতি থেকে কোন সাড়া মিলেনি। এছাড়াও  মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি চিকিৎসা করার জন্য সে জায়গা থেকেও কোন ধরণের আশ্বাস মিলেনি।

রেহেনা জলি আশির দশকে বদরুন্নেসা আব্দুল্লাহ পরিচালিত উজান চরের দুলি টেলিভিশন নাটকে দুলি চরিত্রে অভিনয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর। ১৯৮৫ সালে কামাল আহমেদ পরিচালিত মা ও ছেলে চলচ্চিত্রে ১৪ বছর বয়সে নায়িকা চরিত্রে করে অভিষেক হয় তার। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি ১৯৮৬ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্র বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন প্রায় ত্রিশটির মতো সিনেমায়। নায়ক হিসেবে পেয়েছিলন, আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, রাজ্জাকদের মতো তারকাদের। নায়িকা চরিত্রে উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে বিরাজ বৌ, প্রতীক্ষা, গোলমাল, প্রায়শ্চিত্ত, নিষ্পাপ ।

১৯৯৪ সালে তিনি এ জে মিন্টুর  পরিচালনায় ‘প্রথম প্রেম’ সিনেমার মাধ্যমে মাত্র  ২০ বছর বয়সে নায়িকা থেকে সরে মায়ের চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এরপর বাদল খন্দকার পরিচালিত স্বপ্নের পৃথিবী ছবিতে সালমান শাহের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিগুলোর পর থেকে ঢাকাই সিনেমার নির্ভরযোগ্য মায়ের চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিনয় করেছেন প্রায় পাঁচশটির বেশি চলচ্চিত্রে। গতবছর চলচ্চিত্র মুক্তি পায় মালেক আফসারী পরিচালিত অন্তর জ্বালা ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ