প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শব্দ দূষণের ফলে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

কান্তা আইচ রায় : ঢাকা যেসব কারণে বসবাসের অযোগ্যের তালিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তার অন্যতম কারণ শব্দ দূষণ। শব্দ দূষণ বর্তমানে একটি বড় সমস্যা। দিনদিন এই সমস্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে শব্দ দূষণে বধির হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে রাজধানীবাসীর। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, মানুষের কানের সহন ক্ষমতার দ্বিগুণ শব্দের উৎপত্তি হচ্ছে রাজধানীর অধিকাংশ জায়গায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রাজধানীবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়বে।

গাড়ির তীব্র হর্ণ, উন্নয়নের কাজের ভাঙ্গা-ভাঙ্গিসহ নানা ধরনের বাড়তি শব্দ রাজধানীবাসীর জীবনে নিত্য ঘটনা। নগরবাসী নানা রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন সহনমাত্রার থেকে উচ্চ শব্দের কারণে।

রাজধানীর সব মানুষেরই আছে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা। রাস্তাগুলোতে যেন হর্ণ বাজানোর প্রতিযোগিতায় নামে চালকরা। হর্ণ ছাড়া ব্যস্ত সড়ক এক সেকেন্ডের জন্যও চিন্তা করা যায় না। যানবাহনের পাশাপাশি রাজধানী জুড়ে সারাবছর ধরেই চলছে উন্নায়ন কাজ। আছে কল কারখার মেশিনের শব্দ। ইচ্ছে না থাকলেও অতিরিক্ত শব্দ থেকে মুক্তির উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই তা শুনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

রাজধানীর সবচেয়ে নিরব এলাকায় ৫০ আর শিল্প এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল মাত্রার শব্দ থাকার কথা। পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ জরিপে দেখা যায় রাজধানীর পল্টন, ফার্মগেইট, শ্যামলী, মগবাজার, গাবতলী, মিরপুর, শাহজাহানপুর, মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডসহ ৭০টি এলাকাতেই শব্দের মাত্রা ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবলের বেশি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের কানের শব্দ ধারন ক্ষমতার মাত্রা ৩০ থেকে ৬০ ডেসিবল। শব্দের উচ্চ মাত্রা কমানো না গেলে এই নিরব ঘাতক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষকেও ধীরে ধীরে বধিরে পরিণত করবে। শব্দ নিয়ন্ত্রণে যে আইন আছে তা কার্যকর ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিলেন পরিবেশবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের আশংকা এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক দশকে রাজধানীর তিন ভাগের দুই ভাগ মানুষ বধির হতে পারে। সূত্র : বৈশাখী টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ