প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে কালা কানুন পাসের হিড়িক : রিজভী

শিমুল মাহমুদ : বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় সংসদে কালা কানুন পাসের হিড়িক চলছে বলে মন্তব্য করেছেন।

রিজভী বলেন, ‘৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে ভোটারবিহীন সংসদ সদস্যদের এখন পর্যন্ত ২৩টি অধিবেশন বসেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই শত আইন পাস করেছে তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে নিরঙ্কুশ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই গণবিরোধী খারাপ আইনগুলো পাস করিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘গত অধিবেশনেও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের কণ্ঠরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৮টি আইন পাস করা হয়েছে। চলতি অধিবেশনেও চলছে নতুন নতুন আইন পাসের তোড়জোড়। মানুষ এখন নিজের ছায়াকে দেখলেই ভয় পায়। ঘুমের ঘোরের কথাতেও আতঁকে উঠে। আজকে গণমাধ্যমে এসেছে আরও আইন পাসের জন্য সংসদের চলতি অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দেশের রাজনীতিসহ গোটাদেশকে কব্জায় নিতে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এত কালো আইন পাস করে রেকর্ড গড়তে চলেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব তুলেছেন। যা চলতি সংসদে পাস করতে তোড়জোড় চলছে। এর পিছনে যে চুড়ান্ত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা জাতির সামনে পরিষ্কার।’

‘শেখ হাসিনা পিতার সৃষ্টি বাকশালকে ব্যর্থ হতে দিতে চান না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ভিন্ন কায়দায়, ভিন্ন পন্থায় মৃত বাকশালকে জীবিত করতে অমৃতপান করানো হচ্ছে এ সমস্ত কালো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে। আইনের মারপ্যাঁচে মূলত তিনি দেশে একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন ঘটাচ্ছেন। একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ছাড়া দেশে অন্য কারও নেতৃত্ব থাকবে সেটা তিনি মানেত পারছেন না। সংসদে বিরোধী দলও থাকবে তবে সেটি হবে গৃহপালিত, শেখ হাসিনার আদরের ধন।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী ভোটারবিহীন সংসদে বলেছেন, যদি জনগণ ভোট দেয় আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য আবারও প্রমাণিত হলো তার মন রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ভরা। উনি রাষ্ট্র ক্ষমতা আটকে রেখেছেন জনগণের কল্যাণে নয়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করাটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, আইনি ব্যবস্থায় প্রতারণামূলক নীতি কার্যকর আছে কেবলমাত্র ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে। সুতরাং সেটিরই প্রতিফলন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। সেজন্য তিনি যা ইচ্ছা তাই করার হুমকি দেন। তবে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলে রাখি, জনগণের এজলাসে বিচারের মুখোমুখি হতে ক্ষমতাসীনরা যেন প্রস্তত থাকে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ