প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ড. কামাল কাওয়ার্ড, ব্যারিস্টার মইনুল বরিশাইল্যা, বেশি কথা কয়’!

অসীম সাহা : ‘ড. কামাল কাওয়ার্ড, ব্যারিস্টার মইনুল বরিশ্যাইল্যা, বেশি কথা কয়’! এই কথাটা আমার নয়, জনাব জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। জাফরুল্লাহ ঝোঁপ বুঝে কোপ মারায় ওস্তাদ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের কুশীলবদের অন্যতম প্রধান বিভীষণ কখন যে কী বলতে চান, সেটা ‘দেবা না জানন্তি’ দেবতারাও জানে না! হাওয়া বুঝে পাল খাটানো এই মাঝির একটাই লক্ষ্য, সুযোগ বুঝে হালুয়া-রুটির স্বাদ নেয়া। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে একুশে টিভিতে ‘চরিত্রহীন’ বলে যে অশ্লীল আক্রমণ করে সারাদেশে এবং দেশের বাইরে থেকে আক্রমণের শিকার হয়েছেন এবং শেষপর্যন্ত মানহানির মামলায় এখন জেলে আছেন, তখন থেকেই জাফরুল্লাহ একেবারেই চুপ।

ব্যারিস্টার মইনুল ধূর্ত মানুষ। তিনি বুঝেছিলেন, কাজটা তিনি ঠিক করেননি। চতুর্মুখী আক্রমণে বিধ্বস্ত মাইনুল কোনো ঘাটেই পানি না পেয়ে অবশেষে ড. কামাল হোসেনের দরোজায় করাঘাত করে যখন নেতিবাচক মনোভাব দেখতে পেয়েছেন, তখন জাফরুল্লাহর শরণাপন্ন হয়ে তাকে ফোনে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে মইনুলের জন্য অন্তত একটা বিবৃতি দেয়া হয়। জাফরুল্লাহ যে কামাল হোসেনদের চেয়েও অনেক বেশি সেয়ানা, সেটা ‘বরিশাইল্যা’ মইনুল বুঝতে পারেননি! তিনি ভেবেছিলেন, জাফরুল্লাহ অন্তত তার সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু হলো উল্টোটাই। ‘গাছেরটাও গেলো, তলারটাও হারালো’ অর্থাৎ ড. কামাল এবং জাফরুল্লাহ দুজনের একজনের কাছ থেকেও সামান্য সহানুভূতি না পেয়ে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার হুমকি দিলেন মইনুল।

মইনুলের হুমকিতে কামাল-জাফর হয়তো মনে মনে হেসেছেন! ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’ যে আসলেই একটা নির্বোধ, তা বোঝা গেলো তার টেলিফোনে কথপোকথনফাঁসে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসার পর। ড. কামাল পরোক্ষভাবে ও ব্যারিস্টার মইনুল সরাসরিই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদ্দেশ্য যে বিএনপির চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানকে মাইনাস করা, সে-কথা স্বীকার করেছেন। মইনুল তো টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সেটা আরো স্পষ্টভাবে বলেছেন। বিএনপি দল হিসেবে এখন লেজহীন হনুমান। তাই এ ব্যাপারে তাদের অন্তর্নিহিত গোস্বার ব্যাপারটা এখনো স্পষ্ট হয়নি। রাজনীতিতে সম্পূর্ণ কোণঠাসা বিএনপির একমাত্র ভরসা ছিলো মূলত ড. কামাল হেসেন এবং সঙ্গে ভৃত্য মইনুল। এখন দুই হোসেনের কা- দেখে এখন বিএনপির পক্ষে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ বলে বুক চাপড়ানো ছাড়া আর কিছু থাকলো না!

আসলে মইনুলের ইচ্ছের পথ ধরে সময়-সুযোগ মতো আরো অনেকেই যে ঐক্যফ্রণ্ট থেকে ঝাঁপিয়ে পড়বেন, তার সমীকরণ কিন্তু ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। জাফরুল্লাহ সুযোগের সন্ধানে ছিলেন, তাই একদিকে ড. কামালকে ‘কাওয়ার্ড’, অন্যদিকে মিডিয়ায় মইনুলকে ‘মইনুল বরিশাইল্যা, একটু বেশি কথা কয়’ বলে সবদিক ব্যালেন্স করার পথ ধরেছেন। এটা ড. কামাল ও জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্য নতুন কিছু নয়। অবস্থা বেগতিক দেখলে একজন বিদেশে উড়াল দেবেন; আর একজন গণস্বাস্থ্যের গোপন কুটুরিতে অথবা অন্য কোথাও কাছিমের মতো আত্মগোপন করবেন, এটা তো জানা কথাই। বিএনপির তখন ‘যেও না সাথি’ গানটি গাওয়া ছাড়া আর কোনো গতি থাকবে না! এই কৌতুকটি দেখার জন্য আমাদের হয়তো আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে! ক্ষতি কী? কৌতুক একটু ধীরে ধীরে, রসিয়ে রসিয়ে দেখতেই তো মজা। নাকি?

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক,আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ