প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্ট : বিএনপির অ্যাসেট, না লায়াবেলিটি?

বিভুরঞ্জন সরকার : নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির রঙ বদলাচ্ছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুন উপাদান যোগ হচ্ছে। চলছে নতুন মেরুকরণ। প্রকাশ্যে যেমন নানা তৎপরতা চলছে, তেমনি গোপন তৎপরতাও। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি কূটনীতিকদের ভূমিকা দৃশ্যমান। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের নাক গলানোর সুযোগ নেই। এটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকরাই বিদেশি কূটনীতিকদের লাই দিয়ে মাথায় চড়িয়েছেন। কিছু হলেই তারা ওদের কাছে ছুটে যান। ওরাও মজা পেয়ে গেছেন। এখন অনেক সময় তারা ‘গার্জেন’সুলভ আচরণ করেন। তবে বিদেশিদের বুঝতে হবে, বাংলাদেশ এখন আর আগের বাংলাদেশ নেই। জিয়া-এরশাদ-খালেদার বাংলাদেশ আর শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এক নয়। বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘোরে না। বাংলাদেশ নিজের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে। বিদেশিদের পরামর্শ-উপদেশের পরোয়া অন্তত শেখ হাসিনা করেন না।

দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির সমস্যা হলো তারা এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে দেখতে পায় না, অথবা দেখলেও এই পরিবর্তিত বাস্তবতা মেনে নিতে পারে না। তারা ক্ষমতার বাইরে আছে এক যুগ ধরে। এই এক যুগের পরিবর্তনটা স্বীকার করতে চায় না বলেই তারা রাজনীতিতে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ভুল পথে চালিত হচ্ছে। বিএনপি যে এখনও নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত না দিয়ে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে, তাতে তারা লাভবান না হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিএনপি নিজের সংকট কাটানোর জন্য, নড়বড়ে ঘরে শক্ত খুঁটি দেওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে শামিল হয়েছে বিরাট আশা নিয়ে। এখন ঐক্যফ্রন্টের এক খুঁটি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলছেন, তারেক রহমানকে বাদ দেওয়ার জন্যই নাকি কামাল হোসেনকে আনা হয়েছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা কি খুব উদ্বুদ্ধ হবেন মইনুল হোসেনের এই কথায়? বিএনপির মধ্যে যে এখন কত রকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে, তা বলা বাইরের কারো পক্ষে কঠিন। তবে দলটি যে এক ধারায় চলছে না, সেটা ঠিক। বিএনপিতে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে-বিপক্ষে মত আছে। এক পক্ষ এটা নিয়ে আশাবাদী হলেও আরেক পক্ষ হতাশ। বিশেষ করে ফ্রন্টের দুই মাস্টারমাইন্ড ডা. জাফরুল্লাহ ও ব্যারিস্টার মইনুলকে নিয়ে এখন চরম বিপাকে আছে বিএনপি। কামাল হোসেনের কথাবার্তাও বিএনপির নেতাকর্মীদের খুব উৎসাহিত করতে পারছে বলে মনে হয় না। অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট কি বিএনপির অ্যাসেট, না লায়াবিলিটি?

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে নাকি জনমত ও আন্দোলন গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। কবে এই আন্দোলন হবে? কবে দাবি আদায় হবে? হাতে সময় তো মাত্র কয়েক দিন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। তফসিল ঘোষণার পর আন্দোলন করে দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা করলে সেটা হবে অনেক ‘লেট’। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, এবার দেশে কোনোভাবেই ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হবে না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও এবার কেউ নির্বাচিত হবেন না। বিএনপির খালেদা-তারেকপন্থিরা নির্বাচনে না এলেও ঐক্যফ্রন্টপন্থিরা নির্বাচন থেকে দূরে থাকবেন না।

সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি-কর্তৃত্বপরায়ণতার অভিযোগ এনে বিএনপি খুব সুবিধা করতে পারবে না। কারণ এ সব অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধেও আছে। বিএনপির আমলে দুর্নীতি হয়েছে, মানুষ বিদ্যুৎ পায়নি। এ আমলে দুর্নীতি হলেও মানুষের ঘর আলোকিত হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নতি মানুষ নিজের চোখেই দেখছে। মানুষ না খেয়ে নেই, কষ্টে নেই। কষ্টে আছে বিএনপি। তারা আন্দোলনের নাম সহিংসতা-সন্ত্রাস করতে গিয়ে মামলামোকদ্দমায় জড়িয়েছে। এখন বিএনপির কষ্ট লাঘবের জন্য মানুষ কি নিজেরা কষ্টে থাকার দিনে ফিরে যেতে চাইবে?

বিএনপি তাদের সুবিধামতো অবস্থায় নির্বাচন করতে চায়। আওয়ামী লীগ কেন তাদের সুবিধামতো অবস্থায় নির্বাচন করতে চাইবে না? সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, এই প্রচারণা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হয়েছে বা হবে । এখন শেখ হাসিনা বা তার সরকার পরাজিত হওয়ার জন্য ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচন দেবেন, এমন আদর্শ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কবর তো বিএনপিই দিয়েছে। বিএনপি একুশে আগস্ট করতে পারলে আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতায় ফিরে আসার মতো সুবিধাজনক অবস্থায় একটি নির্বাচন কেন করতে পারবে না? সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ