প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নরসিংদিতে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে সোয়া ৯ লাখ মে. টন ক্ষমতার সার কারখানা

আরিফুর রহমান তুহিন: গ্যাস ও উৎপাদন খরচ প্রায় সামন অথচ উৎপাদিত হবে বর্তমানের থেকে দ্বিগুণ ইউরিয়া সার। ভাবতে কাপ্লনিক মনে হলেও এমনই হতে চলছে দেশের পুরনো দুটি ইউরিয়া কারখানা- ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার পরিবর্তে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। এজন্য প্রাথমিক বাস্তবায়ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৪’শ ৬০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৯ লাখ ২৪ হাজার মে. টন ইউরিয়া সার। বর্তমানে কারখানা দুটি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৪ লাখ ৩৫ হাজার মে. টন।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কারখানার অর্থায়ন করছে জাপান সরকার। আর এর নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জাপানের মিত্সুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লি.(এমএইচআই), জাপান ও সিসি৭ এবং চায়না কনস্টোরটিয়াম। মিত্সুবিশি এর আগে যমুনা সার কারখানা নির্মাণের ঠিকাদারি পেয়েছিলো। প্রকল্প চলাকালীন সময়ে পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ থাকবে। ২০২২ সাল নাগাদ নতুন কারখানা উৎপাদনে গেলে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিটিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এমএইচআই এর ফেলো ও সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজিমি নাগানো এই প্রতিবেদককে জানান, তারা অতীতে এদেশে আরো সার কারখানা নির্মাণ করেছে। তাই বাংলাদেশের আবহাওয়ার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সালের মে অথবা জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সর্বোচ্চ ৩৯ মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সময় আরো কম লাগবে। এখানে বিদেশিদের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনবলও কাজ করার সুযোগ পাবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যেই একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মিত্সুবিশি আশা করছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে তারা ও জাপান সরকার বড় ধরণের সহায়তা করার সুযোগ পাবে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে নির্মাণে ঠিকাদারি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন বিসিআইসির চেয়ারম্যন মো. আমিনুল হক। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ সার কারখানা বাস্তবায়নের রূপ নিচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, এদেশে পাকিস্তান আমলের প্রথম দশকেও কোন সার কারখানা ছিল না। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৬ সালের নির্বাচনে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তিনিই প্রথম সার কারখানা নির্মাণ করেন। জাপানকে পরিক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে আমু বলেন, নতুন স্থাপিত হতে যাওয়া সার কারখানাটি অত্যাধুনিক, জ্বালানি দক্ষ এবং পরিবেশ বান্ধব সবুজ সার কারখানা হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার এখন উত্তম সময়। বর্তমান সরকার এদেশে বিনিয়োগকারিদের সব ধরণের সহায়তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান দীর্ঘ দিনের পরিক্ষিত বন্ধু। উভয় দেশ একে অন্যকে সহায়তা করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, দেশে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব একটি সার কারখানা নির্মাণের জন্য বিডার ফাইন্যান্সিং পদ্দতিতে ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। প্রতিদিন ২৮’শ মে. টন ও বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মে. টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কো. নামে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজের জন্য ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি উম্মুক্ত দরপত্রের আহবান করে। এতে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় রেখে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারি নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ৮ আগস্ট সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা ১ হাজার ২৫ দশমিক ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমোদন দেয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় ১০ হাজার ৪’শ ৬১ কোটি টাকা খরচে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ