প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএসটিআই আইন-২০১৮ সংসদে উঠছে আজ : বাড়ছে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ

বণিক বার্তা : আজ সংসদে উঠছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আইন-২০১৮। এ আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তির পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

১৯৮৫ সালের বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন অর্ডিন্যান্সকে সংশোধন করে নতুন এ আইন করা হচ্ছে। গত ২৮ মে আইনটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়। এরপর ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয় এবং সর্বশেষ সংসদীয় কমিটি হয়ে আজ আইনটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন হতে যাচ্ছে।

নতুন আইনে বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া স্ট্যান্ডার্ডস মান (বিএসটিআইয়ের লোগো) ব্যবহার করলে দুই বছর কারাদণ্ড, অনাদায়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে জরিমানা ২৫ হাজার টাকার কম করা যাবে না। বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এ অপরাধের জন্য ছয় মাস কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে।

এছাড়া লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করে রফতানি-নিষিদ্ধ পণ্য রফতানি করলে এক বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। জরিমানা হবে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। এ অপরাধের জন্য বর্তমান আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ডসহ এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। অন্যদিকে, পণ্য বিক্রয়, বিতরণ, বাণিজ্যিক বিতরণ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করলে চার বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। জরিমানা ৫০ হাজার টাকার কম হবে না। এ অপরাধের জন্য আগে সাজা ছিল চার বছর কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা।

সর্বোপরি এ আইনে সর্বনিম্ন জরিমানার পরিমাণ ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা রাখার বিধান করা হচ্ছে। একই অপরাধ বারবার করা হলে সর্বোচ্চ জরিমানার দ্বিগুণ করার বিধান থাকছে। অর্থাৎ কেউ একই অপরাধ পুনরায় করলে তাকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

বিএসটিআই থেকে ইস্যুকৃত লাইসেন্স হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার ইস্যুর বিধান ছিল না। বর্তমানে আইনে তা সংযোজন করা হয়েছে।

তবে বিএসটিআইকে ন্যূনতম জরিমানা করার মতো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ করেছিল কেবিনেট বিভাগ। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিষয়টি আইনে সংযোজন করেনি।

আগে কারখানা বন্ধের ক্ষমতা ছিল একমাত্র মহাপরিচালকের। বর্তমান আইনে মহাপরিচালকের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরনের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ মহাপরিচালকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কারখানা বন্ধ করার ক্ষমতা পাচ্ছেন। আগের আইনে স্যাম্পল টেস্ট করার পর কারখানা বন্ধের নোটিস দেয়ার বিধান ছিল। কিন্তু বর্তমান আইনে লাইসেন্স নেই, এমন প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার ক্ষমতা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিএসটিআই আইন-২০১৮-তে ১০টি নতুন ধারা সংযোজন হয়েছে। আগের আইনে যেকোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেয়ার বিধান ছিল না। বর্তমান আইনে সে ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান অধ্যাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা চাওয়ার বিধানটি বাধ্যতামূলক ছিল না। বর্তমান আইনে সহযোগিতা চাইলে তা করা বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীর পর ১৯৮৫ সালের বিএসটিআই আইনটি রহিত হয়ে যায়। তবে ওই আইনটি ২০০৩ সালে সংশোধন হয়েছিল। ওই সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমানে বিএসটিআই তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আগের আইনটি ইংরেজি সংস্করণে ছিল। বর্তমানে সেটি বাংলা ভাষায় করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী এসএম ইসহাক আলী বলেন, বিএসটিআইয়ের ন্যূনতম দণ্ড আরোপের বিধান রাখা হলে তাদের পক্ষে কাজ তদারকি সহজ হতো। প্রায় সময় ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চাহিদাপত্র দেয়ার পরও পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে ন্যূনতম ক্ষমতা থাকলে সুবিধা হতো।

বর্তমানে বিএসটিআই ১৯৪টি পণ্যের বাধ্যতামূলক সনদ প্রদান করছে। এগুলোর মধ্যে খাদ্যপণ্য ৭৯টি। ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক পণ্যের সংখ্যা ৩০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। যদিও সংস্থাটি এ পর্যন্ত চার হাজারের অধিক পণ্যের মান প্রণয়ন করেছে।