প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগের লক্ষ্য ২০০ আসন

দৈনিক আমাদের সময় : আগামী নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২০০ আসনে জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী জোট-মহাজোট শরিকদের জন্য ৭০ আসন পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে দলটির নীতিনির্ধারকদের।

গত জাতীয় নির্বাচন বয়কট করা বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে, এমনটি ধরে নিয়েই আসন বণ্টনের ছক সাজিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে না এলে আসন বণ্টনের এই ছক ফের ঢেলে সাজানো হবে।
আগামীকাল শুক্রবার এক যৌথসভায় দলের দায়িত্বশীল নেতাদের এসব বিষয়ে বার্তা প্রদানসহ ‘নির্বাচনী গাইডলাইন’ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের জন্য দলীয় ও জোটগত প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করে ফেলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকাও রয়েছে তার হাতে। এতে কিছু আসনে একাধিক বিকল্প রাখা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি
বিবেচনায় রেখে দলের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক ডেকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন তিনি। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সারাদেশে পরিচালিত একাধিক জরিপের ফল এবং তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। আর জোট শরিকদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে শরিক দলগুলোর নেতাদের চাওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

ইতোমধ্যে শরিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভা বৈঠকের আগে-পরে, জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে এসব বৈঠক করেছেন তিনি। কয়েকটি শরিক দলের সঙ্গে তার নির্দেশক্রমে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও বৈঠক করেছেন। শরিকরা কে কোন আসনে নির্বাচন করতে চান সেই তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এখন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে বা পরে যে কোনো দিন শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বসবেন তিনি। তখন আসন বণ্টনের বিষয়ে নিজ মনোভাব জানাবেন মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ওই নেতারা জানান, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে সর্বোচ্চ ৭০ আসন শরিকদের জন্য ছাড়বে আওয়ামী লীগ। কারণ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে এলে বিএনপি হয়তো ২৫ আসনে জয়ী হতে পারে। কারণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০ আসনে বিজয়ী হয়েছিল। দশম সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ না নিয়ে নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করায় এবং দুর্নীতি ও গ্রেনেড হামলার মামলায় দলটির শীর্ষ নেতাদের সাজা হওয়ায় বিএনপির ভোট কমেছে বলে তথ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের কাছে।
এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট, মহাজোট ও আদর্শিকভাবে গঠিত ১৪-দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু) ২টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া) ২টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ২টি, তরিকত ফেডারেশন ২টি, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিকে (জেপি) ১টি আসনে ছাড় দিতে চায় আওয়ামী লীগ। আর আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে কর্নেল (অব) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিকে ৩টি, সিপিবি-বাসদ নেতৃত্বাধীন জোট ৩টি, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা ২টি, ইসলামী ঐক্যজোট ২টি, কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি ১টি এবং ২০-দলীয় জোট ছেড়ে আসা ন্যাপ ও এনডিপির একাংশের জন্য ২টি আসনে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, এলডিপি, সিপিবি-বাসদ, বিকল্পধারা, কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি, ন্যাপ, ইসলামী ঐক্যজোট ও এলডিপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের আলোচনা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলেই শুধু তাদের আসন ছাড় দেবে আওয়ামী লীগ।
অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এ বিষয়ে দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। তখন আওয়ামী লীগের অন্য শরিকরাও ‘উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র সুযোগ পাবে।

১৪-দলীয় জোটের শরিকদের আসন বণ্টনের বিষয়ে জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জোটের শরিকদের কাকে কোথায় আসন দেওয়া হবে, তা ঠিক করবেন মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ দলের সঙ্গে নেত্রী বসবেন। তখনই নেত্রী ঠিক করবেন, কাকে কোথায় আসন দেবেন। আমরা চাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হোক। জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিক।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন দলের সংসদীয় বোর্ড সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে সারাদেশে পরিচালিত একাধিক জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা গোছানো শুরু করেছেন তিনি। কিছু দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তৃণমূলের মতামত নেবেন তিনি। এর পর দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় দলের সদস্য তথা দলীয় সব সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্বাচনী গাইডলাইন দেবেন শেখ হাসিনা। তিনি তার বক্তব্যে টানা দুই মেয়াদে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নচিত্রও তুলে ধরবেন। সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাবেন। আগামী নির্বাচন যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে এটি মাথায় রেখেই সব ভেদাভেদ ভুলে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে মাঠে নামতে বলবেন তিনি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে অংশ নেবে এবং এ কারণে অনেককে মনোনয়নবঞ্চিত হতে হবে বলেও বৈঠকে আভাস দিতে পারেন মহাজোট নেত্রী।