প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উইঘুর মুসলিমদের জন্য মরুভূমিতে চীনের গোপন বন্দীশালা!

পরিবর্তন : চীনের পশ্চিমের জিনজিয়াং প্রদেশের লাখ লাখ মুসলিমকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল দেশটির সরকার।

চীনের ভাষ্য মতে, মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের বিশেষ ‘কারিগরি বিদ্যালয়’গুলোতে ভর্তি হচ্ছে। ‘সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার’ বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এসব স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

কিন্তু বুধবার বিবিসি অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে সত্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে দাবী করছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।

২০১৫ সালের ১২ জুলাই চীনের পশ্চিমের বিশাল মরুভূমির উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় একটি স্যাটেলাইট ওই জায়গার ছবি তোলে।

ওই দিন তোলা ছবিতে দেখা যায়, একটি ফাঁকা মরুভূমির মাঝখানে বালু ছাড়া কিছু নেই।

কিন্তু ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল ঠিক ওই জায়গাতেই কঠোর নিরাপত্তায় একটি বিশাল কিছু স্থাপনা গড়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে।

দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়াল দিয়ে ঘেরা ওই জায়গাটিতে ১৬ ‘গার্ড টাওয়ার’ বা প্রহরীদের মাচান রয়েছে।

চীন জিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলিমদের ‘internment camps’ নামের বন্দী শিবিরে পাঠাচ্ছে এমন অভিযোগ প্রথমবার পাওয়া যায় গত বছর।

এরপর বিশ্লেষকরা এই অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ম্যাপ তৈরির সফটওয়্যার গুগল আর্থের তথ্য ঘাঁটতে শুরু করেন। তখনই পাওয়া যায় মরুভূমির মাঝখানে নতুন এই স্থাপনার ছবি

ডাবানচেং নামের একটি ছোট শহরের ঠিক বাইরেই ওই স্থাপনাটি অবস্থিত। জিনজিয়াংয়ের প্রাদেশিক রাজধানী উরুমকি থেকে গাড়িতে করে সেখানে যেতে এক ঘণ্টা লাগে।

বিবিসির সাংবাদিকরা পুলিশি বাধা এড়ানোর জন্য খুব ভোরে সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। কিন্তু উরুমকি এয়ারপোর্ট থেকে ডাবানচেং যেতে যেতেই কমপক্ষে পাঁচটি গাড়ি তাদের পিছু নেয়।

প্রতিবেদনে বলা সাংবাদিকরা আগামী কয়েক দিন ওই সন্দেহজনক ক্যাম্পগুলো ঘুরে দেখার যে পরিকল্পনা করছিল তা সহজ হবে না, সেটা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ঘিরে রাখা এলাকাটির কাছাকাছি যাওয়ার পর সাংবাদিকদের গাড়ি থামিয়ে তাদের ক্যামেরা বন্ধ করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।

কিন্তু সেখানে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে তা সাংবাদিকরা খেয়াল করেন। বেশ কয়েকটি ক্রেন নির্মাণ কাজে সচল রয়েছে।

বিবিসির রিপোর্টার জন সাডওয়র্থ বলেন, ‘এটা একটা শহরের মতো। এটা যদি সত্যিই লেখাপড়ার বিষয় হয় তাহলে আমাদের এর কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না কেন?’

ওই জায়গার ভিতরে থাকা লোকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষমাণ আত্মীয়-স্বজনদের কয়েকটি লাইনও দেখতে পান সাংবাদিকরা। তবে তাদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলতে দেয়নি।

উল্লেখ্য, গুগল আর্থের তোলা কিছু জায়গার ছবি আপলোড হতে কয়েক মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে।

চীনের ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টি গত সপ্তাহে মধ্য এশিয়ার সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিনা বিচারে আটকে রাখাকে সমর্থন করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এদের মধ্যে উইঘুর ও কশাক মুসলিমরাও রয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, প্রায় দশ লাখ মুসলিমকে এসব বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। সাবেক কয়েকজন বন্দী সেখানে তাদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাদেরকে সেখানে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। বন্দীদের সন্তানদের তাদের থেকে আলাদা করে রাখা হয় এতিমখানায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ