প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেলিকপ্টারে যাবে নির্বাচনী মালামাল

বাংলাদেশ প্রতিদিন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জোর প্রস্তুতি চলছে নির্বাচন কমিশনে। ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে, পরবর্তী সময়ে একটি সভা করে তফসিল চূড়ান্ত করবে কমিশন। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবেন। এ জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারকে ভাষণ রেকর্ড এবং প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য দুর্গম, স্পর্শকাতর ও বিশেষ বিশেষ নির্বাচনী এলাকায় হেলিকপ্টারে নির্বাচনী মালামাল পরিবহন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আনা-নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে সিইসিসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হবে। এ ছাড়া নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহারের জন্যও হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনপ্রশাসন, শিক্ষাসহ ২৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ৩১ অক্টোবর জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসছে ইসি। বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় হেলিকপ্টারে নির্বাচনী মালামাল পরিবহন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আনা-নেওয়ার পদক্ষেপ; নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা; ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইসি। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা থেকেই আগামী ১২ ও ১৩ নভেম্বর ঢাকায় এবং ২৭ অক্টোবর আট অঞ্চলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার-সংক্রান্ত মেলা করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর আমরা আরেকটি কমিশন-সভা করব। ওই সভাতেই তফসিল চূড়ান্ত হবে।’ রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচনী মালামাল পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বেশি হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে শুধু পার্বত্য দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এবার স্পর্শকাতর ও বিশেষ বিশেষ নির্বাচনী এলাকায় হেলিকপ্টারে নির্বাচনী মালামাল পরিবহনের চিন্তা রয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণেও হেলিকপ্টারে ব্যালট পেপার পাঠানো হতে পারে। সেই সঙ্গে সিইসি, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হবে। নির্বাচনে হেলিকপ্টার ব্যবহার বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান  বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা হবে।’

নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠকের বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘তফসিলের আগে আমাদের নেওয়া সব প্রস্তুতি বাস্তবায়নের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগের সহযোগিতার জন্যই এ আন্তমন্ত্রণালয় সভা। সমন্বয়ের জন্য এক ধরনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সভা এটি। ১ নভেম্বর বিকাল ৪টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির সৌজন্য সাক্ষাৎ রয়েছে। এরপর প্রথম সপ্তাহে তফসিলের সম্ভাবনা রয়েছে।’ ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ওই সভায় উপস্থিতির জন্য ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থাপিত হবে এমন এক ডজন এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে—ভোটকেন্দ্রের স্থাপনা মেরামত ও ভৌত অবকাঠামো সংস্কার, পার্বত্য দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারে নির্বাচনী মালামাল পরিবহন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আনা-নেওয়ার পদক্ষেপ, নির্বাচনী প্রচার, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে সহায়তা, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা, ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাহী হাকিম নিয়োগ, বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পর্যালোচনা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আগাম প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ ও বিবিধ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর মহাব্যবস্থাপক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সেই সঙ্গে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ডাক অধিদফতর, গণযোগাযোগ অধিদফতর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালককে সভায় অংশ নেওয়ার জন্যে বলা হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা বলেন, মনোনয়ন দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রচারের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ৪০-৪৫ দিন ব্যবধান রাখা হয়ে থাকে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, এর মধ্যে নবম সংসদ নির্বাচনেও ৪৭ দিন সময় নিয়ে ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর তফসিল করে ১৮ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রাখা হয়। পরে তিন দফা পরিবর্তন করে শেষবার ৩৭ দিন সময় দিয়ে ২৯ ডিসেম্বর ভোট করা হয়। সর্বশেষ দশম নির্বাচনে ৪২ দিন সময় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর। ভোটের তারিখ ছিল ৫ জানুয়ারি ২০১৪।

তফসিল থেকে ভোট পর্যন্ত এনআইডি সেবা বন্ধ : একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট পর্যন্ত নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত, এনআইডি সংশোধন ও স্থানান্তর নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা বন্ধ থাকবে। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে এনআইডি উইং।

২৫৪ কোটি টাকা সাশ্রয় : এনআইডি উইং মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, স্মার্টকার্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলজিসের সঙ্গে পাওনা পরিশোধে দ্বিপক্ষীয় রফার কারণে ২৫৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। ১০ অক্টোবর সিইসি ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে কোম্পানিটিকে ২২০ কোটি টাকা দিতে রফা করে নির্বাচন কমিশন।

এনআইডি না থাকলেও ইভিএমে ভোট দেয়া যাবে : ভোট দিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির যুগ্ম-সচিব এনআইডি উইংয়ের পরিচালক মো. আবদুল বাতেন বলেন, ভোট দিতে এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন নেই। ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই চলবে। ভোটার নম্বর যাচাই করে নাগরিকরা ভোট দিতে পারবেন। তিনি জানান, ইভিএমে ভোট দিতে আঙুলের ছাপ বা এনআইডি নম্বরের প্রয়োজন পড়ে। পাশাপাশি ভোটার নম্বর থাকলে যাচাই করে ভোট দিতে পারবেন। আবদুল বাতেন জানান, ২০১২ সালের পরে ভোটার হওয়া নাগরিকদের জন্য ৯৩ লাখ লেমিনেটেড কার্ড বিতরণের কাজ চলছে। ভোটের আগে বাদ পড়া ভোটারদের হাতে লেমিনেটেড কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সংসদ নির্বাচনে আরপিও সংশোধনের পর তা ব্যবহার করতে পারবে। এ আইন সংস্কারের প্রক্রিয়া চলছে। এ কর্মকর্তা জানান, শনিবার আটটি (খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা) অঞ্চলে ইভিএম প্রদর্শনী চলবে। ১২ ও ১৩ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ইভিএম মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ