প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের সিবিআইয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে ছুটি

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ভারতের সবচেয়ে বড় তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) এর ‘গৃহযুদ্ধ’ এবার নয়া মোড় নিলো। একে অপরের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে ঘুষ নেবার অভিযোগ এনে নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় ছেঁটে ফেলা হল সিবিআইয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ডিরেক্টর অলোককুমার বর্মা ও স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে৷
এ ঘটনার পর সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হেেয়ছেন জয়েন্ট ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও৷ বুধবার রাত ৩টায় ওই আদেশ জারি করে যত শীঘ্র সম্ভব সংস্থার দায়িত্বভার বুঝে নিতে বলা হয় নাগেশ্বর রাওকে। পাশাপাশি ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে অলোককুমার বর্মা ও রাকেশ আস্থানাকে৷

এছাড়া সরানো হয়েছে অলোককুমার বর্মার ঘনিষ্ঠ ছয় কর্মকর্তাকে। তাদেরও ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। দিল্লির লোধি রোডে সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দপ্তরের ১১ ও ১২ তলায়, আস্থানা এবং বর্মার অফিসেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢুকতে ও বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে৷ সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা৷ আস্থানা এবং বর্মা যাতে সিবিআইয়ের সদর দপ্তরে ঢুকতে না পারেন, সে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশেই এই সমস্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে৷ তবে সিবিআইয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে ছুটিতে পাঠিয়েও স্বস্তি মিলল না প্রধানমন্ত্রীর। ওই নির্দেশের পরেই সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন অলোক বর্মা।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তার আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি হবে আগামী শুক্রবার। গত কয়েকদিন ধরেই ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সিবিআইয়ের মধ্যে৷ অন্তর্কলহে জড়িয়ে পড়েছেন সংস্থার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা৷ স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন ডিরেক্টর অলোককুমার বর্মা৷ সংস্থার ডিরেক্টর অলোককুমার বর্মার বিরুদ্ধে পাল্টা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনেন আস্থানা। এই অভিযোগের পালায় প্রশ্ন ওঠে সিবিআইয়ের ভাবমূর্তি নিয়ে। ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয় দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যে৷

এ ঘটনার পর সিবিআইয়ের শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠান খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই আস্থানাকে সাসপেন্ড করতে উঠেপড়ে লাগেন অলোককুমার বর্মা। গ্রেপ্তার করা হয় আস্থানা ঘনিষ্ঠ অফিসার দেবেন্দ্র কুমারকে। তাকে দশদিনের হেফাজতে চায় সিবিআই। মোদি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আস্থানার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে অলোককুমার বর্মা শিবির। তল্লাশি চালানো হয় সিবিআইয়েরই সদর দপ্তরে।

মঙ্গলবার পাল্টা আদালতের দ্বারস্থ হয় আস্থানা শিবির। সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিবিআইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে যাতে কোনও কঠোর পদক্ষেপ না করা হয় সেজন্যও আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনে সাড়াও মিলেছে। তার বিরুদ্ধে ২৯ অক্টোবরের আগে কোনওরকম আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এরপরই বুধবার দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে ছেঁটে ফেলা হল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান করা হল এম নাগেশ্বর রাওকে।

ওড়িশার আইপিএস নাগেশ্বর রাও সিবিআইয়ে যুগ্ম কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। চলতি বছর পদোন্নতি হয় তার। জয়েন্ট ডিরেক্টর পদে আসেন। ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর পাশ করার পর নাগেশ্বর গবেষণা করেন মাদ্রাজ আইআইটি থেকে। ১৯৮৬ সালে হন আইপিএস।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ