প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে উৎপাদিত বাজাড় জাত খাদ্যপণ্যে ৫৭ ভাগই ভেজাল

মোহাম্মদ রুবেল: দেশে উৎপাদিত বাজাড় জাত খাদ্যপণ্যে ৫৭ ভাগই ভেজাল। এর মধ্যে মিষ্টিতে ৯৯ ভাগ এবং ভোজ্য তেল সয়াবিনে ৬৮ ভাগই বেজাল। তবে ভোক্তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধ এবং নির্ধারীত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বোতলজাত সুপেয় পানি ও কোল্ড ড্রিংস বিক্রির বিষয়েই বেশি অভিযোগ করে। ভেজালের বিরুদ্ধে সারা বছর জুড়েই অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হলেও সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষরণ ও অধিদপ্তরে হতে জানা যায়, বিগত ১০ বছরের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অভিযোগের সংখ্যা ১৩ হাজার। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সারাদেশে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে এবং ভোক্তাদের দায়ের করা বিভিন্ন মামালা নিষ্পত্তি করে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৫৯৫ প্রতিষ্ঠানকে ১৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তবুও কেন কমছে না ভেজাল এবং বর্তমানে খাবারে ভেজালের পরিমাণ কতটা? জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর আমাদের অর্থনীতিকে জানান, খাদ্যপণ্যে ৫৭ ভাগই ভেজাল। এরমধ্যে মিষ্টিতে ৯৯ ভাগ ভেজাল, ভোজ্য তেল সয়াবিনে ৬৮ ভাগই ভেজাল পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতি বোতল পানির দাম পাঁচ টাকা করে বেশি রাখাসহ নানা অভিযোগের কারণে রাজধানীর বনানীর চাপ সামলাও রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জনসংখ্যা ইনস্টিটিউটের তথ্য দিয়ে পরিচালক বলেন, সয়াবিনের ১০৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ফলিক অ্যাসিডের মাত্রা পাওয়া গেছে শতকরা দুই দশমিক আটভাগ। যেখানে সহনীয় মাত্রা হচ্ছে শতকরা দুই ভাগ। এ হিসেবে ভোজ্য তেল সয়াবিনে মাত্রতিরিক্ত ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ দশমিক আটভাগ বেশি। এর সাথে অন্যসব ক্যামিকেল মিশে সয়াবিনে ৬৮ ভাগ ভেজাল পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, জেল জরিমানায় ভেজাল মুক্ত খাবারের নিশ্চয়তা দেওয়া যায়না। তাই জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছি। জনগণ সচেতন হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতারণা করার সুযোগও কমে আসবে।

প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক কামাল উদ্দিন আমাদের অর্থনীতিকে জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কাজ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম ক্রমে বেড়েই চলেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং বিভিন্ন জেলায় নিজস্ব গাড়ির অভাবে অধিদপ্তরের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেছেন, ভেজালরোধে বর্তমান আইনের সংস্কার করতে একটি খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায় হলে আগামী বছর হতে সাজার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এতে ভোক্তারা ভবিষ্যতে আরো উপকৃত হবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ