প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গোমতীর চরে সবুজের হাসি

মাহফুজ নান্টু: সন্ধ্যার পরেই প্রকৃতিজুড়ে কুয়াশা আস্তরণ জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। আর শীত আসলেই কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করে। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো কৃষকদের এমন ব্যস্ততা চোখে পড়ে কুমিল্লার গোমতী নদীর চরজুড়ে। চরের বিস্তীর্ণ জমিতে লাল শাক,ডাটা,পুঁই,বাঁধাকপি,ফুলকপি, মূলা,সীম,লাউের সবুজ পাতায় চোখ জুড়িয়ে যায়। আর এই গোমতীরচরে উৎপাদিত সবুজ শাক-সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। যেখানে দেশের বাইরে থেকেও দেশে উৎপাদিত শাক-সবজির স্বাদ গ্রহণ করতে পারে বাঙালি।

সরেজমিনে, গোমতীর আলেখারচর,বালিখাড়া,পালপাড়া,টিক্কারচর,শাহপুর ও গোলাবাড়ী এলাকার ঘুরে ও সবজি চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন মাঠে তারা লাল শাক-ফুলকপি-বাঁধাকপি,লাউ,সীম-করলা ও গোল আলু চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে।

গোমতীর টিক্কার চর এলাকার সবজি চাষী কবির আহমেদ জানান, ১০ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন। আগামী দশ-বারো দিনের মধ্যে ফসল পরিপক্কতা পাবে। পাশের জমিতে কাজের লোকদের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন আহমেদ শেখ। বাণিজ্যিকভাবে শাক-সবজি উৎপাদন করেন আহমেদ শেখ।

তিনি জানান, গত বছর এ সময়টাতে গোমতী নদীতে আকস্মিক বন্যায় প্রায় দু’লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছিলো। সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার তিনি ৫০ শতক জমিতে ফুল কপি-বাঁধা কপির চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বেশ ভালো মুনাফা হবে বলে আহমেদ শেখ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গোমতীর চরের বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া,কামাড়খাড়া,ভান্তি এলাকার গোমতীর চরে ঘুরে দেখা যায়, সবজি চাষিরা গোল আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। তাদের মধ্যে কথা হয় বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করা আবদুল মজিদের সাথে।

তিনিও জানান, গত বছরের বন্যায় তিনিও বেশ ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এনজিও থেকে নেয়া ঋণের টাকা এখনো কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করছেন।

আবদুল মজিদ জানান, এ বছর একটু আগেই গোল আলু চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যরা হয়তো আরো কিছু দিন পরে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করবে। তবে আগাম আলু উৎপাদন করতে পারলে দ্বিগুণের মত মুনাফা করা সম্ভব। তাই তিনি কাজের লোকের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতক জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

তিনি জানান, ছয়জন কাজের লোক কাজ করছে তার জমিতে। এ বছর আবহাওয়া বেশ অনুকূলে মনে হচ্ছে। তাই কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছি। সবমিলিয়ে আগাম গোল আলু উৎপাদনে তার লক্ষাধিক টাকার বিনিয়োগ হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ফসল ভালো হলে বিনিয়োগের দ্বিগুন মুনাফা করা সম্ভব হবে।

তবে গোমতীর চর ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও প্রান্তিক সবজি চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন সবজি চাষে। কারণ আর প্রায় মাসখানেক পরে রোপা আমন ধান পরিপক্ক হবে। তখন এই সবজি চাষিরা আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়বেন নবান্ন উৎসবে। আর এ কারণেই এখন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সবজি চাষিদের বিষয়ে কথা বলেন কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলিপ অধিকারী। তিনি জানান, এ বছর জেলার কৃষকদের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার সার-বীজ সংক্রান্ত প্রণোদনা দেয়া হবে। মাঠে এখন ১৬ হাজার হেক্টর জমি আলু চাষের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর ৬ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে অন্যান্য শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত