প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

# রীতি ভেঙে সৌদি যুবরাজের রিয়াদ সম্মেলনে যোগদান
গার্ডিয়ানে এরদোগানের ভাষণ বিশ্লেষণ

নূর মাজিদ : তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বিশ্ববাসীর সামনে নগ্ন সত্য তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিমন্ডলে যারা এরদোগানের রাজনৈতিক কঠোর অবস্থানের সঙ্গে পরিচিত তারা আশা করেছিলেন এবার খাসোগজি হত্যাকাণ্ডে সৌদির পরিকল্পনা নিয়ে হাঁটে-হাড়ি ভাঙবেন এরদোগান। কিন্তু, সেই আশা ভঙ্গ করেছে এরদোগানের তুর্কি পার্লামেন্টের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণ, সেখানে তিনি উত্তরের চাইতে প্রশ্নই বেশি তুলেছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার প্রশ্নের মাঝেই সম্ভাব্য উত্তরগুলো লুকিয়ে ছিলো। ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান এই ভাষণ বিশ্লেষণ করে গত মঙ্গলবারই এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে তার ভাষণের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেছে ব্রিটিশ দৈনিকটি।

গার্ডিয়ান জানায়, গত মঙ্গলবারের ভাষণে একবারের জন্যেও খাসোগজি হত্যাকা-ের অডিও বা ভিডিও টেপের নতুন কোন তথ্য পার্লামেন্টের সামনে তুলে ধরেননি এরদোগান। এর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে তুরস্কের হাতে থাকা ওই সকল অডিও-ভিডিও তথ্যের অধিকাংশই ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি দূতাবাসে তুর্কি গোয়েন্দাদের স্থাপিত গোপন রেকর্ডিং যন্ত্রের মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই তুরস্ক দেশটিতে বিদ্যমান সৌদি কূটনৈতিক মিশনের ওপর নজরদারি করছিলো। আনুষ্ঠানিকভাবে এই কথা স্বীকার করার মানে তুরস্কের দ্বারা সরাসরি ১৯৬১ সালে স্বাক্ষরিত ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন। ওই কনভেনশন বিশ্বব্যাপী কূটনীতি ও শিষ্টাচারের মানদণ্ড স্থাপন করেছিলো।

তবে সম্ভাব্য দ্বিতীয় কারণ হতে পারে, গত সোমবার সিআইএ প্রধান জিনা হ্যাস্পেলের জরুরি ভিত্তিতে তুরস্ক সফর। তুর্কি প্রেসিডেন্ট নগ্ন সত্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন- এমন হুমকি দেবার পরই তিনি তাৎক্ষণিক তুরস্ক সফরে আসেন। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তুর্কি তদন্তে বিন সালমানের খাসোগজি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনই বিশ্ববাসীর সামনে তুলে না ধরার দাবি নিয়েই হ্যাস্পেলের সাম্প্রতিক সফর। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষকদের ধারণা জিনা হ্যাস্পেল কোন ধরনের গোপন মার্কিন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবারের মতো এরদোগানকে শান্ত করেছেন।

তবে মঙ্গলবারের ভাষণে সৌদি যুবরাজের নেতৃত্বে চলমান তদন্তের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন এরদোগান। যদিও একবারের জন্যেও তিনি বিন সালমানের নামও উচ্চারণ করেননি। এরদোগান বলেন, আমাদের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে যে এই হত্যাকাণ্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছে। এর দায় মুষ্টিমেয় কিছু গোয়েন্দা ও নিরাপত্তারক্ষীর ওপর চাপিয়ে দেয়ার নীতি তুরস্ক বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কাউকেই সন্তুষ্ট করবে না। যে ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা এতে জড়িত তাদের সকলেরই বিচার হওয়া উচিত এবং তা হতে হবে ইস্তাম্বুলের আদালতে। গার্ডিয়ান বলছে, মূলত সৌদি যুবরাজের উদ্দেশে যেন মামলার চার্জশিট ছুড়ে দিলেন এরদোগান।

এদিকে এরদোগানের ভাষণ চলাকালীন ‘ডাভোস ইন ডেজার্ট’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দেন যুবরাজ সালমান। এই সম্মেলনে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অনুপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। যেসব বহুজাতিক কোম্পানি এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছে তাদের অধিকাংশই নিজেদের শীর্ষ নির্বাহীর পরিবর্তে তাদের মধ্যপ্রাচ্য প্রধানদের এই সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায়। অনুপস্থিত কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের শূন্য আসন পূরণ করতে আরব আমিরাত ও জর্ডান বড় আকারের প্রতিনিধি দল পাঠায়। তবে একাধিক সৌদি নাগরিকের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান প্রতিবেদন বলছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ওই সম্মেলনে যুবরাজের উপস্থিতি সৌদি আরবের রাজকীয় প্রথাবিরোধী। গতকাল বুধবার সৌদি যুবরাজের সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার সময়সূচি নির্ধারিত ছিলো। দ্য গার্ডিয়ান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত