প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধলেশ্বরী নদী দখল করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ- হাইকোর্টে রুল

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর-মানিকগঞ্জ থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা মৌজার ধলেশ্বরী নদীর জায়গা দখল করে ডরিন পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব থাকায় নদী দখল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে অবশেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সেইসঙ্গে, ওই নদীর অবৈধ দখল, উচ্ছেদ, স্থাপনা অপসারণ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ধলেশ্বরী নদীকে সিএস/আরএস রেকর্ড অনুযায়ী তার মূল সীমানা রক্ষার জন্য বিবাদীদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ বিবাদীকে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শুনানি শেষে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক।

শুনানিতে মনজিল মোরসেদ জানান, নদীর জায়গা দখল করে কোন প্রজেক্ট তৈরি বিদ্যমান আইন এবং আদালতের রায়ের অবমাননা। কাজেই ধলেশ্বরী নদী দখল করে সেখানে ডরিন পাওয়ারের কর্মকা- সম্পূর্ণ অবৈধ।

সম্প্রতি “ সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদী দখল করে ডরিন কোম্পনীর পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ” শিরোনামে দৈনিক আমাদের অর্থনীতি বিভিন্ন দৈনিকে ফলাও করে স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশে (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। গত ২১ অক্টোবর এই রিট দায়ের হয়। রিটের শুনানি নিয়ে গত মঙ্গলবার আদালত এই আদেশ দেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর একটি অংশ এরই মধ্যে ভরাট করেছে ডরিন পাওয়ার। উপজেলার ধল্লা এলাকায় ধলেশ্বরীর ওই অংশ দখল করে চলছে প্রতিষ্ঠানটির ১৬২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। কেন্দ্রটি নির্মাণে পরিবেশ ছাড়পত্রও নেয়নি ডরিন পাওয়ার।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ধল্লা-ফোর্ডনগর গ্রামের ৬৭২ নং মৌজায় প্রায় সাড়ে ১১ একর জমি বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, যা নদীর সীমানা নির্ধারণী ভাষাশহীদ রফিক সেতু থেকে প্রায় ২০০ মিটারের মধ্যে। শুধুনদী দখল নয়, ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য যে কালভার্ট, তাও ভরাট করা হয়েছে বালি ফেলে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে নদীরক্ষা বাঁধের ভেতরের ঘরবাড়ি।

নদী দখল বন্ধে ও সরকারি জমি রক্ষায় গত ৪ জুন জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ করে ওই গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। সরেজমিন নদী দখলের দৃশ্য দেখে প্রকল্পটি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশও দেন নদী রক্ষা কমিশন। সেই সাথে কমিশনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক সদ্য মোঃ আলাউদ্দিনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়।

প্রকল্পটির জন্য পরিবেশ অধিদফতর থেকে কোনো ছাড়পত্রও নেয়নি ডরিন পাওয়ার। ছাড়পত্রের জন্য কোনো আবেদন তারা পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (পরিবেশগত ছাড়পত্র) সৈয়দ নাজমুল আহসান।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে প্রস্তাব দেয় ডরিন পাওয়ার। ওই বছরের নভেম্বরে কোনো দরপত্র আহ্বান ছাড়াই দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ আইনে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। যার প্রেক্ষিতে কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে নদীর ফোরশোরভুক্ত ও চর্চা দাগের ভুমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেয়া খাস জমি দখল করে ডরিন কোম্পানী।
এতে বাধা দেয় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

এলাকাবাসি ও পরিবেশবাদী সংগঠন- বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ , মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফৌজদারী আইনে মামলা হলেও জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। সেই সাথে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ২ জন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হলেও তার কার্যক্রম রয়েছে লাল ফিতায় বন্দি।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, আমি গতকাল বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডরিন কোম্পনীর কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের ব্যাপার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ