প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া ডিবির ছড়াছড়ি, একমাসে গ্রেফতার ১৫

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : কখনো জোর করে গাড়িতে তুলে, কখনো স্বশরীরে হাজির হয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী, চাকরীজীবী বা বিত্তশালীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিযে নিচ্ছে একটি চক্র। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও এদের কর্মকান্ড থামানো যাচ্ছেনা। গত একমাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ের ১৫ প্রতারককে আটক করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত সোমবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র-গুলি ও মাইক্রোবাসসহ ভুয়া ডিবির ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. শামীম হোসেন (৩০), আল আমিন (৩০), মো. সেন্টু (৩০), সুধির দাস (৩৯), আবু রায়হান (২৬) ও মো. লিটন (৩৪)। এসময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি ম্যাগাজিন, ১ রাউন্ড গুলি, ওয়ারলেস সেট (ওয়াকিটকি), হাতুড়ি, লিভার, কসটেপ ও ১টি নোয়া মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এক আদম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী সড়কে বেড়িকেড দিয়ে ৬ ভুয়া ডিবি পুলিশকে আটক করে। এরা হলেন, কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট গ্রামের নাসির উদ্দিন (৩৭), ঝিনাইদহের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল আলীম, রায়গঞ্জ উপজেলার চন্ডিদাসগাতি গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে কবির হোসেন (৩২),পাঙ্গাসী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ফরহাদ হোসেন (৩৫), মনোহারা পাঙ্গাসী গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে মানিক শেখ (৪০) ও উল্লাপাড়া উপজেলার স্টেশন এলাকার মোটরসাইকেল মেকার আব্দুল খালেক জোয়ারদারের ছেলে সুমন (৩৫)।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে জাপান প্রবাসী ছাত্র নাফিজুর রহমান ওরফে মানিক (২২) নামে এক যুবককে অপহরণ করে। এরপর তার মা রেহানা আক্তারের কাছে ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে জানায়, তার ছেলে নাফিজকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়াতে হলে অবিলম্বে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হবে। এরপর এক লাখ টাকার বিনিময়ে নাফিজকে রমনা থানাধীন মীরবাগ এলাকায় ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় নাফিজের মা বাদি হয়ে রমনা থানায় অপহরণ মামলা করেন। পরে র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নয়াটোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নুর হোসেন ওরফে নুরুকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, এ চক্রের সদস্যরা সাধারণত পুলিশের মতই চুল ছোট করে কাটে এবং সুঠামদেহের অধিকারী হয়। মানুষ যেন বুঝতে পারে তারা পুলিশের লোক। এছাড়াও তাদের সঙ্গে ডিবির জ্যাকেট, হ্যা-কাফ ও ওয়াকিটকিও থাকে। পুলিশের এসব সরঞ্জাম রাজধানীর পলওয়েল মার্কেট থেকে আগে সংগ্রহ করা গেলেও এখন আর তা পারেনা। তবে সাবেক কিছু পুলিশ সদস্য এ চক্রে জড়িয়ে তাদের সরঞ্জাম সরবরাহে সহযোগিতা করে থাকে বলে তদন্তে জানা গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ