প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাউজানে নোয়াপাড়ায় বৃদ্ধশ্রমে আত্মহত্যা করলেন এক বৃদ্ধ

কামরুল ইসলাম বাবু, রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজানে নোয়াপাড়া আমেনা-বশর বৃদ্ধাশ্রমে আবুল হাসেম (৫৪) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। আমেনা-বশর বৃদ্ধাশ্রমে তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরুক জানিয়েছেন, নিহত আবুল হাসেম রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়াডের গফুর শাহ সিকদার বাড়ির মৃত ফজলে বারি ওরফে আবদুল হাকিমের পুত্র। তিনি গত ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর থেকে এই প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়ে আছেন।

জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে শোয়ার খাটের পাশে থাকা জানালার রডের সাথে পায়ের ব্যাণ্ডেজের কাপড় খুলে হাসেম আত্মহত্যা করে। বৃদ্ধাশ্রমের সেবক প্রদীপ দত্ত বলেছেন, আশ্রমের যে কক্ষটিতে আবুল হাসেন থাকতো সেই কক্ষে আরো তিন বৃদ্ধ থাকেন। তাদের মধ্যে একজন পক্ষাঘাত ও বাকরুদ্ধ রোগী। পক্ষাঘাত বৃদ্ধ বিছানায় থাকলেও অপর দুজনের মধ্যে একজন এবাদতখানায় নামাজে, আরেকজন রাতের খাবার খেতে ওই সময় ডাইনিং কক্ষে ছিল। এক পা কাটা অবস্থায় থাকা হাসেম ও অপর পক্ষাঘাত রোগাক্রান্ত ব্যক্তির জন্য সেবক প্রদীপ খাবার নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখেন জানালায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় হাসেম এর নিথর দেহ খাটে কাত হয়ে আছে।

বিষয়টি দেখে তিনি প্রতিষ্ঠানের তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরুকসহ অন্যদের ডেকে জানায়। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শেখ জাবেদ মিয়া ঘটনাস্থলে যায়। বৃদ্ধাশ্রমের লোকজন বলেছেন, নিহত হাসেম গত কয়েক মাস থেকে পায়ের সমস্যায় ভোগছিলেন। এই সমস্যা বেড়ে গেলে গত কয়েকদিন আগে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার সময় সাথে ছিলেন হাসেমের এক বোনও। হাসপাতালের চিকিৎসকগণ তার পায়ের অবস্থা খারাপ দেখে একটি পা কেটে ফেলে দেন।
গত প্রায় দু সপ্তাহ আগে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে হাসেম আবার বৃদ্ধাশ্রমে ফিরে আসেন।

জানা যায়, হাসপাতাল থেকে ফিরে তিনি বোনের সাথে বাড়ি ফিরতে চাইলেও তাকে পরে এসে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাসে তার বোন ফিরে যায়।

হলদিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, হাসেমের দুই ছেলে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী। অপর এক ছেলে স্থানীয় মাদরাসায় পড়ে। ঘরে আছে নিজ স্ত্রী। মেম্বার মোহাম্মদ আলী আরো জানায়, হাসেম গত তিন বছর আগে নিজের বাড়িভিটা বন্ধক দিয়েছিল। এই নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে তার পুত্ররা ওই ভিটা বন্ধক থেকে উদ্ধার করেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির এলাকার লোকজন লাশ নিতে ঘটনাস্থলে আসছেন বলে জানা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ