প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মধ্যাঞ্চলের নদীতে অবৈধ ড্রেজারের ছড়াছড়ি : কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না

রিপনচন্দ্র মল্লিক,মধ্যাঞ্চল প্রতিনিধি : দেশের পুরো মধ্যাঞ্চলের নদ-নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, কুমার, মধুমতি, পালরদী, গড়াইসহ মধ্যাঞ্চলের সকল নদ-নদীতেই রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধ ভাবে এসব বালু উত্তোলন করছে। ফলে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন করায় নদীর পাশের ফসলি জমি ও বাড়ি ঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এসব ড্রেজার মালিকদের অধিকাংশই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গসংগঠনের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা। বিভিন্ন প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করলেও কিছুতেই এসব অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদ নদী থেকে বালু উত্তোলন করা বন্ধ করা যাচ্ছে না। নৌপরিবহনমন্ত্রীর নিজ জেলা মাদারীপুর হওয়ায় মাদারীপুরেই বালু উত্তোলন কিছুতেই ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। জেলার শিবচর, মাদারীপুর, রাজৈর ও কালকিনির নদ-নদীতে অসংখ্যা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসনও অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে চোখ বুঝে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আড়িয়াল খাঁ নদেই পুরো জেলা জুড়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক জ্রেজার মেশিন রয়েছে। এসব ড্রেজার মালিকদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যায় না। কেউ বাধা দিতে এলে মারধরের শিকার হতে হয়।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সোবাহান সরদার বলেন, গত মাসে আমি আড়িয়াল খা নদে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের প্রতিবাদ করায় আমার পায়ের রগ কর্তন করেছে স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ী রুবেল খান, সোহেল খান ও মোয়াজ্জেম মোল্লা গংরা। আমি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছি।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সাইফুদ্দিন গিয়াস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘উপজেলা প্রশাসন এর আগেও অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ করেছে। যেখানে অবৈধ ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলণ করা হবে আমরা দ্রুত তা বন্ধে ব্যবস্থা নেবো।’
দেশের মধ্যাঞ্চলের নদ-নদীতে থাকা এসব ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনে হাজার হাজার বিঘা জমি নদী তীরবর্তী জমি মালিকরা নদী গর্ভে চলে যাওয়ার আশংকা করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ